বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে “Climate Leadership in a Shifting Global Landscape” শীর্ষক সেশনে অংশ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৪ জুন ২০২৬) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সেশনে তিনি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি জলবায়ু ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’ (Loss and Damage Fund) দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ তহবিলকে প্রতিশ্রুতির পর্যায় থেকে বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন আরও সহজলভ্য করার ওপর জোর দেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’ (Green Climate Fund-GCF) আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রশমন (Mitigation) কার্যক্রমের পাশাপাশি অভিযোজন (Adaptation) উদ্যোগও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সেশনে তিনি জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রযুক্তি হস্তান্তর বৃদ্ধি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

এর আগে সম্মেলনস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) আলোইস জভিংগি। এ সময় তাদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, চীনের দালিয়ান শহরে ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলন। “Innovating at Scale” বা “বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন” প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এবারের সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি, শিল্প কাঠামোর পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও উদীয়মান প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ, চীনের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং এর অর্থনৈতিক সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবধান কমিয়ে আনার বিষয়টিও এবারের সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১ হাজার ৭০০ সরকারি প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করছেন। তাদের উপস্থিতিতে দালিয়ান আবারও বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নবিষয়ক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।