বৃদ্ধ মা-বাবাকে ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও মারধরের প্রতিবাদ করায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় আহত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. হাসান।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ভোলা সদর উপজেলার চড়পাতা গ্রামের মানিক বাঘা ও শাহ আলম বাঘার অনুসারীরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে। গত ২৪ জুন অভিযোগের বিষয়ে সমাধানের উদ্দেশ্যে নিজ গ্রামে গেলে তার ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, এর আগে গত ২১ জুন হাসানের বৃদ্ধ মা-বাবা ও ভাই-বোনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে শাহ আলম বাঘার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার প্রতিকার চাইতে গিয়ে পরবর্তীতে হামলার শিকার হন হাসান।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪ জুন পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলে যাওয়ার পর বিকেল প্রায় ৪টা ৪৫ মিনিটে রকির নেতৃত্বে একদল স্থানীয় ব্যক্তি তার, তার বাবা ও ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, ইট-পাটকেল ও লাঠিসোঁটা ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হাসানের মাথা ফেটে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসানের অভিযোগ, জাতীয় পার্টি বিজেপি ভোলা জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন ওরফে মানিক বাঘা এবং শাহ আলম বাঘার নেতৃত্বে এ হামলা সংঘটিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সুদের লেনদেনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবার বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি, নির্যাতন ও চাপের মুখে রয়েছে। এর ফলে তার বড় ভাই মুহাসিন দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং দিনমজুর বাবা হিরণ বিভিন্ন সম্পত্তি হারিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে পরিবারের শেষ আশ্রয়স্থল ভিটেবাড়ি থেকেও উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় মানিক বাঘার অনুসারী রকি, জাহাঙ্গীর বাড়ৈ, শাহ আলম বাঘা, মনিরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর ও হুমকির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

হাসান আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে তাদের পরিবারকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে এবং এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা বর্তমানে নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

এ বিষয়ে মো. হাসান বলেন, “আমাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক নির্যাতন, ভয়ভীতি ও হামলার শিকার। এর প্রতিকার চাইতে গিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।”

ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা আছে। এটি পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত একটি বিষয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিল। পরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান বলেন, “হাসানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”

প্রসঙ্গত, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা।