জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীন এবং জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় নেত্রী সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে দলীয় তদন্তে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এনসিপি।

তদন্ত শেষে দুজনকেই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া ভিত্তিহীন অভিযোগ আনার অভিযোগে অভিযোগকারী সানজিদা সুলতানা ইভাকে দলীয় সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত জুন মাসে রাজনৈতিক পদ, চাকরি ও ব্যবসায়িক সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে চট্টগ্রামের চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন এনসিপির কর্মী সানজিদা সুলতানা ইভা। ওই অভিযোগের তদন্তে করতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তিন সদস্যের একটি তদন্ত ও শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করেছিল।

সানজিদা ইভা গত মাসে সংবাদ সম্মেলন করে এস এম সুজা উদ্দীন এবং সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন,সাংগঠনিক বৈঠকের কথা বলে তাকে নগরীর জিইসি মোড়ের হোটেল ওজন বার অ্যান্ড লাউঞ্জে ডেকে নেওয়া হয়।সেখানে তাকে রাজনৈতিক পদ, চাকরি ও ব্যবসায়িক সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও যৌন হয়রানিমূলক অঙ্গভঙ্গির অভিযোগ তোলেন।

তবে পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে ওজন বার অ্যান্ড লাউঞ্জের বিলের কপিতে খাবার,কফি, সফট ড্রিংকস ও সিগারেটের উল্লেখ থাকলেও কোনো অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় বা মাদকদ্রব্যের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপি নেতৃত্বের দেওয়া একটি বিবৃতিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য-সচিবকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল।

এর আগে, চকবাজার থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, জিডির বিষয়ে তদন্ত শুরুর জন্য আদালতের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনার মাধ্যমে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনায় থাকা অভিযোগের বিষয়ে এনসিপি তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করল। তবে জিডি-সংক্রান্ত আইনগত প্রক্রিয়ার অগ্রগতি হলে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।