জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বীর প্রতীক তারামন বিবি হল ছাত্রদলের উদ্যোগে ৫৪ ও ৫৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মেধার পাশাপাশি নৈতিকতা চর্চা এবং নারী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে হলের কমন রুমে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক বীর প্রতীক তারামন বিবি হল ছাত্রদলের সভাপতি তাইয়্যেবা রাজিয়া মুসকান বলেন, ‘বিগত দিনগুলোতে মেয়েদের হলগুলোতে নবীন বরণ বা রাজনৈতিক কোনো অনুষ্ঠান সেভাবে পালন করা হয়নি। একটি ছাত্রী সংগঠনের মূল দায়িত্বই হলো দলমত নির্বিশেষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুবিধা নিয়ে কাজ করা। আর শিক্ষার্থীদের এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের সাথে ছাত্র-ছাত্রীদের একটি শক্ত মেলবন্ধন তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। মেয়েদের রাজনীতিবিমুখতা দূর করে তাদের সচেতন করতেই প্রশাসন ও শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করে আমাদের এই আয়োজন।’
অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শামীমা সুলতানা শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘গত ১৬-১৭ বছরে নেতিবাচকতা দেখতে দেখতে রাজনীতি সম্পর্কে আমাদের একটা অনীহা চলে এসেছে। কিন্তু আপনি যদি রাজনৈতিকভাবে সচেতন না হন, তাহলে দেশের জন্য কাজ করতে পারবেন না।’
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের যে ৫০ শতাংশেরও বেশি নারী, তারা যদি একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়, তবে তাদের কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। এই ব্যাপারটি যেন সবসময় আমাদের মাথায় থাকে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ভবিষ্যৎ তৈরি করার জায়গা। যেহেতু আমাদের নিজেদের হাতেই ভবিষ্যৎ তৈরি করার সুযোগ আছে, তাই এবার ঠিক বক্সে ঠিক রংটা লাগাতে হবে। প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী একেকটি শিল্পী এবং এই শিল্পকর্ম হচ্ছে নিজের ভবিষ্যৎ।’
সাফল্যের জন্য মেধার চেয়ে নৈতিকতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে উপাচার্য দুর্নীতিবাজদের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আমরা মতিউর-বেনজীরকে দেখেছি। তারা বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম দিকে ছিল এবং স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ পদে পৌঁছেছিল। কিন্তু আমরা দেখেছি আমাদের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে এই মানুষগুলো শুধু ভবন থেকেই পালিয়ে যায়নি, দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে শুধু মেধা নয়, নৈতিকভাবে আলোকিত মানুষ না হলে কখনোই সাফল্য স্থায়ী হয় না।’
এছাড়া তিনি বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস চর্চার তাগিদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই নির্মোহ ইতিহাস রচয়িতা তৈরি হওয়ার আহ্বান জানান।
বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবেদা সুলতানা হলের নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রব এবং সহকারী প্রক্টর ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু সাঈফ মো. মুনতাকিমুল বারী প্রমুখ। এ সময় হলের বিপুল সংখ্যক নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ণ