জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলেও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) শহিদদের স্মরণে প্রস্তাবিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহিদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ওই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনের ২০১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী শহিদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ নিহত হন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে শহিদদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি ওঠে। ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘দাবি উত্থাপন মঞ্চ’-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংস্কারের পাশাপাশি শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালের স্থানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসন প্রথমে আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরে গত ৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ‘কালজয়ী মুজিব’ ম্যুরাল ভেঙে দেন। এরপরও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই-৩৬’ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হয়েছে এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অদম্য-২৪’ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. ফারদিন আহমেদ দীপন বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক দায়িত্ব। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়াকে তিনি হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তামিম হাসান বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মীর মুগ্ধসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব।
প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শিরিন সুমা বলেন, জুলাই কেবল একটি মাস নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এ ইতিহাস তুলে ধরতে দ্রুত স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি ওঠার পর থেকেই ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, শহিদ মীর মুগ্ধের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও তারা স্মৃতিস্তম্ভে ছবি বা ম্যুরাল ব্যবহারের অনুমতি দেননি। তাই ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বাঙালির ইতিহাস ও চেতনার বিভিন্ন দিক গ্রাফিতি ও ভাস্কর্যের মাধ্যমে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
উপাচার্য আরও জানান, এ প্রকল্পের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
পাশাপাশি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং খুলনা, রাজশাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও চারুকলা বিভাগের সমন্বয়ে একটি নকশা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত কাজ শুরু করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ