স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের রাতে যেন এক অনন্য কাকতালীয় ইতিহাসের জন্ম হলো। ১৯ বছর বয়স, ১৯ নম্বর জার্সি এবং ১৯ জুলাই—এই তিনটি ‘১৯’ মিলেই বিশ্বকাপ জয়ের স্মরণীয় অধ্যায় লিখলেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল।
বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র ছয় দিন আগে, ১৩ জুলাই নিজের ১৯তম জন্মদিন উদযাপন করেন ইয়ামাল। সেদিন তার একমাত্র প্রত্যাশা ছিল, স্পেন যেন ১৯ জুলাই পর্যন্ত বিশ্বকাপে টিকে থাকে। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পাশাপাশি দিনটি এনে দিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নের গৌরবও।
নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন।
শুরুর একাদশে থাকা ইয়ামাল পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে চাপে রাখেন। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই তার নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে ইয়ামালের বাঁকানো ফ্রি-কিকও অসাধারণভাবে প্রতিহত করেন আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষক। গোল বা অ্যাসিস্ট না পেলেও স্পেনের আক্রমণে অন্যতম বড় ভূমিকা রাখেন বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরলেও জাতীয় দলে নিজের পরিচিত ১৯ নম্বর জার্সি ধরে রেখেছেন ইয়ামাল। এই জার্সিতেই দুই বছর আগে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর এবার বিশ্বকাপও জিতলেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপে গোল করে ১৯৫৮ সালের পর বিশ্বকাপে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে কিংবদন্তি পেলের রেকর্ডেও নাম লেখান ইয়ামাল। এরপর মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়ে স্পেনের নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা হিসেবে নিজেকে আরও একবার প্রতিষ্ঠিত করলেন।
১৯ বছর বয়স, ১৯ নম্বর জার্সি, ১৯ জুলাই—তিনটি ‘১৯’ মিলেই লামিন ইয়ামালের ফুটবল জীবনে যুক্ত হলো সবচেয়ে বড় অর্জন, বিশ্বকাপ শিরোপা।
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ