অপতথ্য প্রচার, নারী শিক্ষার্থীকে সামাজিকভাবে হেনস্তা এবং উস্কানিমূলক তথ্য প্রকাশের অভিযোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) সাংবাদিক ফোরামের সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্যমতে, গত ১১ জুলাই ক্যাম্পাসে কয়েকজন বহিরাগত যুবক কয়েকজন ছাত্রীর গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের আটক করলে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তদন্ত কেন্দ্রের মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরামের এক সদস্য ও একটি জাতীয় দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ক্ষমা চাওয়ার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ছাড়াই ভিডিওটি ক্লিকবেইট শিরোনামে সাংবাদিক ফোরামের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। প্রশাসনের দাবি, এতে ঘটনাটি বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়।

ভিডিওটি প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন অননুমোদিত ফেসবুক পেজে অপপ্রচার চালানো হয়। এতে তিনি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন এবং সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। প্রশাসনের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ফোরাম সদস্যও কয়েকটি পোস্টে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন। ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা দ্রুত বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

ঘটনার প্রতিবাদে রোববার শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে এবং ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল সাংবাদিক ফোরামের কার্যক্রম বন্ধ করা এবং নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী আন্দোলনের পর প্রশাসন ফোরামের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত এবং তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়।

নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী রাফেল আফ্রাদ বলেন, “আমরা চাইছিলাম বহিরাগত ছেলেগুলো তাদের ভুল বুঝতে পারে। কিন্তু সেই সময় সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ভিডিও ধারণ করেন। ছেলেরা তার কাছে ভিডিও প্রকাশ না করার অনুরোধও করেছিল। এরপরও ভিডিওটি কাটছাঁট করে ভুলভাবে প্রচার করা হয়। এর ফলে এলাকাবাসী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। আমরা এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতার বিচার চাই।”

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরাম গঠিত হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সংগঠনটির বিরুদ্ধে মানহানিকর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ, বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন এবং অপতথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।