চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার অসচ্ছল মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে ইঞ্জিনিয়ার মকবুল ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২২ জন অসচ্ছল ছানি রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন ও লেন্স প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) ঢাকার লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রোগীদের অস্ত্রোপচার করা হয়। অপারেশন শেষে সবাই সুস্থ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে তারা নিয়মিত বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসে ওয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে ২২ জন ছানি রোগীকে অপারেশনের জন্য নির্বাচন করা হয়। পরে ২০ জুলাই তাদের ঢাকার লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ২১ জুলাই সফলভাবে ছানি অপারেশন ও লেন্স প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়।
রোগীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, ওষুধ, হাসপাতালের ব্যয়সহ চিকিৎসাসংক্রান্ত সব ধরনের খরচ বহন করেছে ইঞ্জিনিয়ার মকবুল ফাউন্ডেশন।

এদিকে, গত শনিবার উপজেলার সূচীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ফাউন্ডেশনের আয়োজনে আরও একটি দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এ ক্যাম্পে ঢাকার লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। চিকিৎসা শেষে ২৮ জন ছানি রোগীকে শনাক্ত করা হয়।

তাদের তৃতীয় ধাপে ঢাকায় নিয়ে একইভাবে বিনামূল্যে ছানি অপারেশন ও লেন্স প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে। এ ক্ষেত্রেও রোগীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, ওষুধ ও চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে ফাউন্ডেশন।

ছানি অপারেশনের সময় ঢাকার লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মকবুল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মকবুল হোসেন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল হোসেন এবং উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার। রোগীদের যাতায়াত ও সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন আনিসুর রহমান মাস্টার।

ফাউন্ডেশনের এই মানবিক উদ্যোগে উপকৃত রোগী ও তাদের স্বজনরা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে আরও বেশি অসচ্ছল মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পান।