বিপজ্জনক সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টাকালে মৌরিতানিয়ার উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় ১৪০ জনের বেশি শরণার্থী নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) আশঙ্কা করছে, নিখোঁজদের সবাই মারা গেছেন।

বুধবার (২২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইউএনএইচসিআর জানায়, গাম্বিয়ার বাফুলোতো থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া নৌকাটি ২৫ দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর ১৮ জুলাই মৌরিতানিয়ার নুয়াদিবু বন্দরে পৌঁছায়। সেখানে নৌকাটি থেকে কয়েকটি মৃতদেহ এবং ৩৮ জন জীবিত যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। বাকি ১৪৩ জনের কোনো খোঁজ মেলেনি।

সংস্থাটির মুখপাত্র ম্যাট সল্টমার্শ জানান, জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে দুজন শিশু রয়েছে। তারা যাত্রাপথে নিজেদের পরিবারের সবাইকে হারিয়েছে এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ইউএনএইচসিআর আরও জানায়, ১৪ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে মৌরিতানিয়ার উপকূলে তিনটি পৃথক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে আরও ৩৮৭ জন অভিবাসীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১৪ জুলাই নোঙর করা আরেকটি নৌকায় একজনের মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, মৌরিতানিয়ার কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের সংখ্যা ১২২ জন। তাদের দাবি, ১৬০ জন যাত্রী নিয়ে গাম্বিয়া থেকে যাত্রা শুরুর পর নৌকাটির জ্বালানি শেষ হয়ে পড়ে।

ইউএনএইচসিআর ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জগামী আটলান্টিক রুটকে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসনপথ হিসেবে উল্লেখ করেছে। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই এবং অনুপযোগী নৌযান ব্যবহারের কারণে এ পথে প্রাণহানির ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষকে এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, মৌরিতানিয়া আটলান্টিক অভিবাসনপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট। এখান থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত কঠোর নজরদারি ও অভিযানের ফলে সাম্প্রতিক সময়ে এ পথে যাত্রার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সূত্র- আল জাজিরা।