রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর সামনে আসার পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সরকার বা ক্ষমতাসীন বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহল ও দলীয় সূত্রে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় উঠে এসেছে।

আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই দায়িত্ব ছাড়তে পারেন।

সূত্রগুলো বলছে, তিনি বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন এবং সম্প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ফাইলে স্বাক্ষর থেকেও বিরত রয়েছেন। সম্ভাব্য পদত্যাগ-পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। দায়িত্ব ছাড়ার পর কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়া এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি সরে যেতে চাই।” আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রের ভাষ্য, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কুমিল্লা-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই নেতা দলের দুঃসময়ে নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ছিলেন। কারাবরণসহ নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দল ছাড়েননি বা দল ভাঙার কোনো উদ্যোগে যুক্ত হননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি পদের অন্যতম শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি পদে কারও নিয়োগ বা মনোনয়ন সম্পর্কে এখন পর্যন্ত সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই আলোচনায় থাকা নামগুলো রাজনৈতিক মহল ও বিভিন্ন সূত্রভিত্তিক তথ্য হিসেবে বিবেচ্য।