এ মুহূর্তে দেশের ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। সে আলোচনায় এগিয়ে আছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে আন্দোলন-সংগ্রামে দলকে ধরে রাখার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত ও সজ্জন হিসেবে তাঁর পরিচিতি তাঁকে এগিয়ে রেখেছে।

জোরালো আলোচনায় আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির তিন সদস্য। বর্ষীয়ান এই তিন নেতার পাশাপাশি আলোচনায় আছেন বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। এ কারণেই আওয়ামী লীগ আমলে ওএসডি হওয়া এই কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিকভাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্বে রাখা হয়েছে। তবে তাঁকে এ পদের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে বিবেচনা করছি না। এমনটা হলে রাজনৈতিক নেতারা হতাশ হতেই পারেন।

আলোচনায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক। একাধিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। উচ্চশিক্ষিত ও সজ্জন হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।

আলোচনায় আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ড. আব্দুল মঈন খান। তিনিও সাবেক মন্ত্রী। উচ্চশিক্ষিত, সজ্জন এবং পারিবারিক ঐতিহ্য তাঁকে এগিয়ে রেখেছে।

তবে আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে আমি সবচেয়ে এগিয়ে রাখব বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ নজরুল ইসলাম খানকে। বর্তমানে তিনি মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা। ২০১৮ ও ২০২৬ সালে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। এ ছাড়া তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সজ্জন, মার্জিত ও বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব এবং দলের শীর্ষনেতার প্রতি আনুগত্য তাঁকে এ পদের অন্যতম যোগ্য প্রার্থী করেছে। তিনি রাষ্ট্রপতি হলে সেটিই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হবে বলে আমার মনে হয়।

বেঁচে থাকলে হয়তো রাষ্ট্রপতি পদে আরও কয়েকজনের নামও উচ্চারিত হতো। সে তালিকার শীর্ষে হয়তো থাকতেন প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। এ ছাড়া ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম. সাইফুর রহমান এবং অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের নামও শোনা যেত।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়। তবে সম্প্রতি বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দীনের পদত্যাগের গুঞ্জনের পর বিষয়টি আরও বেশি আলোচিত হয়ে উঠেছে। সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন।

রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম অনুযায়ী প্রথম স্থানে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে স্পিকারের দায়িত্ব পালনের কথা বলা রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত, কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করিবেন।”

সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদে রাষ্টপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদটিতে আছে, ”রাষ্ট্রপতির-পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ওই পদ শূন্য হলে মেয়াদ শেষের তারিখের আগে ৯০ অথবা সর্বনিম্ন ৬০ দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

এছাড়া রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণ হলে নির্বাচনের বিষয়ে সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হবার পর নব্বই দিনের মধ্যে সেটি পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি কাকে মনোনীত করে।

লেখক: তরুণ বিশ্লেষক ও নির্বাহী সম্পাদক, খবরবেলা।