কক্সবাজারের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের ৫০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই বাংলাদেশ। সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের (KSrelief) অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার মোট ৫ হাজার পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) পেকুয়া উপজেলার ৭ নম্বর শিলখালী ইউনিয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

আইএসডিই বাংলাদেশ জানায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের ও অসহায় পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিটি পরিবারের জন্য ১০ কেজি চাল, ৭ কেজি ডাল, ৩ লিটার সয়াবিন তেল, ৩ কেজি চিনি এবং ১ কেজি লবণ সমন্বয়ে একটি খাদ্য প্যাকেজ দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, এই সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তাৎক্ষণিক খাদ্যসংকট কিছুটা হলেও লাঘব করবে।

বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দীন, সমাজসেবক রেজাউল করিম এবং এস.কে ফিশারিজের স্বত্বাধিকারী জাহেদুল করিম।

আইএসডিই বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কর্মসূচি সমন্বয়কারী মো. জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দীন, প্রজেক্ট অফিসার সুপম বড়ুয়া, প্রকল্প কর্মকর্তা (মিল) মোস্তাক আহমদ এবং লজিস্টিকস কর্মকর্তা তাজ উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দীন বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোর এ ধরনের মানবিক সহায়তা দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আইএসডিই বাংলাদেশের কর্মসূচি সমন্বয়কারী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার ৫ হাজার পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

খাদ্য সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন সুবিধাভোগীরা। তারা বলেন, বন্যার কারণে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার খাদ্যসংকটে পড়েছে। এ সহায়তা তাদের কয়েক দিনের খাদ্যচাহিদা পূরণে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

আইএসডিই বাংলাদেশ জানায়, এর আগে কক্সবাজারের হোস্ট কমিউনিটির বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা, বন্যাকবলিত অঞ্চল এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পসহ মোট ৫৬ হাজার ৫০০ সুবিধাভোগীর মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।