জনতার দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাহিদ রানা বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান জাতির সম্মিলিত অর্জন। এগুলোকে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একক সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে বর্তমানে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিকেও দলীয় পরিচিতি ও রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ইতিহাসকে সম্মান করা এক বিষয়, আর ইতিহাসকে রাজনৈতিক বিপণনের উপকরণে পরিণত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

নাহিদ রানা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। তবে ২০২৪ সালের গণআন্দোলন রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, নিরস্ত্র মানুষের প্রাণহানি ও জনগণের ক্ষোভের কারণে সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। সেই আন্দোলন ছিল জনগণের আন্দোলন; কোনো একক রাজনৈতিক দলের মালিকানাধীন আন্দোলন নয়।

তিনি আরও বলেন, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের আবেগকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা, ইতিহাসকে রাজনৈতিক ব্র্যান্ডে পরিণত করা এবং জনগণের অনুভূতি নিয়ে কৌশলগত রাজনীতি করা ভবিষ্যতের জন্য শুভ বার্তা নয়। জনগণ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে, ইতিহাসও সবকিছুর সাক্ষী হয়ে থাকবে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জনগণের আবেগ নিয়ে রাজনীতি না করে জনগণের আস্থা অর্জনের রাজনীতি করা।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ রানা বলেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে এবং কঠোর সমালোচনাও গণতন্ত্রের অংশ। তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কিংবা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম শালীনতা, সৌজন্য ও রাজনৈতিক ভদ্রতা বজায় রাখা প্রত্যেক নেতাকর্মীর দায়িত্ব। ব্যক্তিগত অবমাননা নয়, বরং যুক্তি, নীতি ও কর্মসূচিভিত্তিক রাজনীতিই একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন ইতিহাস বিক্রির রাজনীতি নয়; সুশাসন, জবাবদিহিতা, শিষ্টাচার, উন্নয়ন ও জনকল্যাণে নিবেদিত নেতৃত্ব দেখতে চায়। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত অতীতের আবেগকে পুঁজি না করে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য কার্যকর কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা।