চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী আবু হানিফের বিরুদ্ধে পরকীয়া সম্পর্ক, নারীঘটিত নানা অভিযোগ ও স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী ফখরুন নেছা শাহরাস্তি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

হাজী আবু হানিফের বর্তমানে চারজন স্ত্রী রয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তার প্রথম স্ত্রী মোসাৎ বেগমের পিতার বাড়ি রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের পরানপুর মোল্লা বাড়িতে। দ্বিতীয় স্ত্রী ফখরুন নেছার বাড়ি একই ইউনিয়নের আহম্মদ নগর হাসেম মুক্তারের বাড়ি। তৃতীয় স্ত্রী রিনা আক্তার (বাইদানি) বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন। চতুর্থ স্ত্রী রোকেয়া বেগমের বাড়ি কচুয়া উপজেলার জগৎপুরে।

সম্প্রতি দ্বিতীয় স্ত্রী ফখরুন নেছা আবু হানিফকে তালাক দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফখরুন নেছার অভিযোগ, তার স্বামী একই এলাকার প্রবাসী ফারুক হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম বেগমের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। এ সংক্রান্ত ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের মধ্যে গত ২৪ জুলাই প্রবাসী ফারুক হোসেন দেশে ফেরেন এবং পরদিন ২৫ জুলাই স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে তালাক দেন বলে জানা গেছে।

তালাকের বিষয়ে ফারুক হোসেন বলেন, তিনি বিদেশে থাকাকালে তার স্ত্রী ও হাজী আবু হানিফকে ঘিরে অবৈধ সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। বিষয়টি তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেন নি। তারপর সে আমার দীর্ঘ দিনের প্রবাসের থাকাকালীন জমানো টাকা ও স্বর্ণ অলংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। এ বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ভাবে আমি বাংলাদেশে আসি। পরে পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনের নানা বিষয় বিবেচনা করে ২৫ জুলাই স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে ফখরুন নেছার সঙ্গে আবু হানিফের বিরোধ দেখা দেয়। ফখরুন নেছার অভিযোগ, কথিত সম্পর্কের বিষয়ে স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালান এবং কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। পরে এ ঘটনায় শাহরাস্তি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ফখরুন নেছা।

ফখরুন নেছার আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আবু হানিফ বিভিন্ন এলাকার প্রবাসী ও বিধবা নারীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন। এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে তার বিরোধ ও কথা কাটাকাটি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ফখরুন নেছা বলেন, “আমার বিয়ে হয়েছে প্রায় ৩৮ বছর আগে। আমি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। আমার পরেও তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন। বিভিন্ন নারীর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয় প্রায়ই শুনতাম। এসবের প্রতিবাদ করলে আমাকে মারধর করা হতো। শেষ পর্যন্ত মান সম্মানের কথা চিন্তা করে বৃদ্ধ বয়সে তাকে তালাক দিতে বাধ্য হয়েছি।”

তবে ফখরুন নেছার করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান হাজী আবু হানিফ। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে চক্রান্ত করে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছে। আমিও থানায় অভিযোগ করেছি। এ বিষয়ে আমি আইনের আশ্রয় চাই।

অভিযোগের বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “পক্ষদ্বয়ের অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”