বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির সূচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটোগ্রাফি ক্লাবের আয়োজনে ‘জুলাই অন ক্যানভাস’ শীর্ষক চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল ড. খন্দকার আখতার হোসেন। তিনি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, শিল্পভাবনা ও দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশের প্রশংসা করেন। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি স্মরণ করা হয় এবং এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে নির্মিত ডকুমেন্টারি ও ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বিকাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফি ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক আবু জাফর তৌফিক আহমেদ আহাদ জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “জুলাই কোনো একক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নয়; বরং দেশের জন্যই আমরা সবাই একসঙ্গে রাজপথে নেমেছিলাম। আমাদের স্বপ্ন ছিল একটি নতুন বাংলাদেশ-যেখানে ন্যায়বিচার থাকবে, নিরাপত্তা থাকবে এবং সবাই নিজের মতো করে বাঁচতে পারবে। আমরা সেই স্বপ্ন দেখেছি, আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের সবার। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছে, সেই বাংলাদেশ গড়ার দায়ও আমাদের সবার।”

অনুষ্ঠানে ফ্যাকাল্টি অব মেরিটাইম গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পলিসির শিক্ষার্থী শ্রাবণী আক্তার বিথী বলেন, “আমি লক্ষ্মীপুরের প্রথম শহীদ আফনানকে স্মরণ করছি। তাঁর মায়ের কাছ থেকে সব সময়ই শুনেছি, তিনি কেবল তাঁর ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান, যা বাংলাদেশে সম্ভব হচ্ছে না। একজন আইনের শিক্ষার্থী হিসেবে এটি আমার জন্য খুবই লজ্জাজনক যে আমি এমন একটি দেশের পরিচয় বহন করছি, যেখানে আইনের সঠিক প্রয়োগ নেই।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল ড. খন্দকার আক্তার হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।