চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ইউটিএল চবি চ্যাপ্টারের উদ্যোগে ‘অ্যাকাডেমিক পাবলিকেশন রিট্র্যাকশন: কজেস, কনসিকোয়েন্সেস অ্যান্ড কশন্স’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষক ও গবেষকেরা গবেষণাপত্র প্রত্যাহারকে গবেষকের ‘চুরি’ হিসেবে না দেখে গবেষণায় নৈতিকতা নিশ্চিত করতে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি অন পাবলিকেশন এথিকস (কোপ) গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের সভাকক্ষে ইউটিএল চবি চ্যাপ্টারের সদস্যসচিব অধ্যাপক মো. ইব্রাহীম হোসেনের সঞ্চালনায় সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
ইউটিএল চবি চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্লাহ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান বলেন, গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচিত হলেও এটি গবেষণায় স্বচ্ছতা, সততা ও মান নিশ্চিত করার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ইচ্ছাকৃত অনিয়মই শুধু নয়, বিভিন্ন ধরনের অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি ও ভুলের কারণেও গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অন্যের গবেষণার তথ্য ব্যবহার বা তথ্য বিকৃত করে প্রকাশনার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড (প্লেজিয়ারিজম) অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণার নৈতিকতা তদারকিতে কমিটি অন পাবলিকেশন এথিকস (COPE) প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত কাঠামো বাংলাদেশের অধিকাংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও অনুপস্থিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নেওয়া শিক্ষক ও গবেষকেরা বলেন, গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষককে চুরির দায়ে অভিযুক্ত না করে প্রত্যাহারের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। পাশাপাশি গবেষণায় নৈতিকতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও প্রশিক্ষণের আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউটিএলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও চবি ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী বরকত আলী, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ড. মো. আশরাফ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রাশেদা চৌধুরী, অনুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেরাজ উদ্দিন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল বাশারসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও গবেষকেরা।
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ