চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অধ্যয়নরত নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করেছে পাঠশালা সিএইচটি রিসার্চ সেল।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হসপিটালের কনফারেন্স কক্ষে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে চবিতে অধ্যয়নরত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বরণ করে নেওয়া হয়। এছাড়া তাঁদের পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত বিভিন্ন বইপত্র ও শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ‘নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক আইন: বাংলাদেশের বাস্তবতা এবং টেকসই সমাধান’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে পাঠশালার সমন্বয়ক মুহাম্মদ কাউছার উল্লাহর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন চবির রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবির সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, প্রভাষক মারুফ আহমেদ, পাঠশালার উপদেষ্টা তৌহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামাল পারভেজ ও আবু বকর ছিদ্দিক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এ অঞ্চলে বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সব নাগরিকের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা জরুরি। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সমস্যা ও বিরোধের সমাধানে আবেগ বা বিভাজনের পরিবর্তে সংবিধান, প্রচলিত আইন, বাস্তবতা ও তথ্যভিত্তিক গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই শান্তি, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। সব নাগরিকের সমঅধিকার ও ন্যায়সংগত সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।”
প্রধান আলোচক অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, “বিভাজনমূলক রাজনীতি বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো প্রচেষ্টা যেন পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।” একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিভিন্ন বিষয় পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “নাগরিকত্ব কোনো জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় না। রাষ্ট্রের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই একটি আধুনিক রাষ্ট্রের মূলনীতি।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাঠশালার উপদেষ্টা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, জনগোষ্ঠীর পরিচয়, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, অধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে এ অঞ্চলের বাস্তবতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন।”
সেমিনারের সভাপতি ও পাঠশালা সিএইচটি রিসার্চ সেলের সমন্বয়ক মুহাম্মদ কাউছার উল্লাহ বলেন, ‘উপজাতি’ ও ‘আদিবাসী’ শব্দ দুটি সমার্থক নয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন ১০৭ ও ১৬৯-এর আলোকে ‘indigenous’ ও ‘tribal’ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোকে ‘উপজাতি’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক অভিবাসন ও বসতি স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে তথ্যভিত্তিক গবেষণা প্রয়োজন। ‘আদিবাসী’ শব্দটির ব্যবহারকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক রয়েছে, তা আবেগের পরিবর্তে ইতিহাস, আইন ও গবেষণার আলোকে মূল্যায়ন করা উচিত।”
পাঠশালা পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসার, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠচক্র ও সেমিনারসহ বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করে যাচ্ছে পাঠশালা।
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ