অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

প্রথম দিন থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে দুইশ রানের আগেই অলআউট করে টাইগাররা। এরপর ব্যাট হাতে জবাব দেন তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তানজিদের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং শান্ত-মিরাজের অর্ধশতকে ভর করে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেয় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের স্বস্তিতে থাকতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। হাসান মাহমুদের আগুনঝরা পেস আর মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরির পরও অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ২৮৪ রানে।

ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি। ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা।

১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মুমিনুল হক। ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি, আর সাদমান ইসলাম অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে।

ম্যাচের নায়ক হাসান মাহমুদ

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম নায়ক পেসার হাসান মাহমুদ। দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি শিকার করেছেন ৯ উইকেট। দুর্দান্ত বোলিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর এই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়—এটি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় মাইলফলক। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে এসে টাইগাররা বুঝিয়ে দিল, বিদেশের মাটিতেও বড় দলকে হারানোর সামর্থ্য এখন তাদের রয়েছে।