এক সপ্তাহের ব্যবধানে পৃথক ঘটনায়  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু হয়েছে। অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে দুটি মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

প্রথমে গত রবিবার (৯ আগস্ট) সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত মারা যান। এর এক সপ্তাহ পর সোমবার (১৭ আগস্ট) দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হুসাইন।

পরপর দুইটি অকালমৃত্যুতে বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনেকটা ভেঙে পড়েছেন। এ বিষয়ে ইয়াসিন আরাফাতের সহপাঠী রাকিবুল ইসলাম বলেন, গত দেড় বছরের ব্যাবধানে আমরা বাংলা বিভাগ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থীকে হারিয়েছি। সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ইয়াসিনের মৃত্যুর শোক কাটাতে না কাটাতেই আমাদের আরেক ভাই হুসাইন চলে গেলো। সব মিলিয়ে বাংলা বিভাগে এখন শোকের মাতম বিরাজ করছে

এবং হুসাইনের সহপাঠী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলা বিভাগ হারালো তার দুই প্রিয় মুখ! ইয়াছিনের পরে এবার অনন্ত পথে পাড়ি জমালো আমাদের সবার পরিচিত হুসাইন গোলদার। এই বারবার ক্ষয় আমাদের থমকে দাঁড় করায়, ভাবতে বাধ্য করে জীবনের ক্ষণস্থায়ীত্ব নিয়ে। শোকসন্তপ্ত পরিবার গুলোকে আল্লাহ তায়ালা ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুক, আমিন।

বাংলা বিভাগের সভাপতি ড. শারমিন আক্তার বলেন, হুসাইনের মৃত্যুর খবর শুনে আমরা গভীর ভাবে শোকাহত। তাকে এখন ভারতে থেকে নিয়ে আসতেছে। হুসাইন ছেলেটা খুব ভালো এবং লাজুক স্বভাবের ছিল। এভাবে চলে যাবে আমরা কল্পনা করি নাই। একটি শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আরো একটি শোক এতে বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনেকটা ভেঙে পড়েছে।

উল্লেখ্য, সড়ক দুর্ঘটনায় ইয়াসিন আরাফাতের মৃত্যুর পর চার দফা দাবি নিয়ে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক ব্লকেড করে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। এবং হুসাইনের পরিবার মধ্যবিত্ত হওয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে ফান্ড কালেকশন করে চিকিৎসার খরচ বহন করতে পরিবারের পাশে দাঁড়ান শিক্ষার্থীরা।