চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগ। অনুষ্ঠানে বক্তারা ব্লু ইকোনমি গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় ফিশারিজ বিভাগের উদ্যোগে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ উদযাপন করা হয়। এর আগে বিভাগ থেকে ওশেনিয়া স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড পর্যন্ত একটি সংক্ষিপ্ত শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমীন এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন ফিশারিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আজম খান।
আলোচনা সভায় উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ব্লু ইকোনমি গবেষণাকে শুধু মাছ চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশগত প্রভাব, রোগ প্রতিরোধ, সামুদ্রিক আইনসহ আন্তর্জাতিকমানের গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস ও ফিশারিজ বিভাগকে আরও ফলপ্রসূ ও আন্তর্জাতিকমানের গবেষণা পরিচালনার আহ্বান জানান।
তিনি জানান, গবেষণার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারে পৃথক অফিস গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গবেষণা অনুদান সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র্যাংকিং ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ক্লাস ও টিউটোরিয়ালে অনিয়ম, দেরিতে উপস্থিতি এবং দায়িত্বে গাফিলতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন উপাচার্য। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ক্লাস মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং শিক্ষক সংকট আগামী এক মাসের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
পরিবহন সুবিধার বিষয়ে তিনি জানান, গত পাঁচ মাসে ছাত্রী ও ছাত্রদের জন্য পৃথক চারটি করে এবং শিক্ষকদের জন্য পাঁচটি নতুন বাস চালু করা হয়েছে, যা প্রশাসনের উদ্যোগে জসীমউদ্দীন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ আল আমীন বলেন, জাতীয় বাজেটে টেকসই ব্লু ইকোনমি উন্নয়নে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিকাশের জন্য বরাদ্দকৃত ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তিনি এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠনের সরকারি লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্লু ইকোনমি বিষয়ক ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ প্রতিষ্ঠা, মেরিন স্পেশাল প্ল্যানিং, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের মডেলিং, জাহাজ ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, এসপিএস চিংড়ি পোনা উৎপাদন এবং উদ্যোক্তা তৈরির মতো গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ ছাড়া সি-উইড চাষ সম্প্রসারণ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যনির্ভর জাতীয় ইলিশ ও অভয়ারণ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা (এমপিএ) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী বাংলাদেশের জলসীমার ১০ শতাংশ সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণার লক্ষ্য ইতোমধ্যে অতিক্রম করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ফিশারিজ বিভাগের সভাপতি ড. মো. আশরাফুল আজম খান বলেন, ২০১৮ সালে মাত্র তিনজন শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিভাগটি থেকে এ পর্যন্ত ১৩৭ জন শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে বিভাগে কোনো সেশনজ্যাম নেই।
তিনি জানান, বিভাগের স্নাতকদের মধ্যে ১০ শতাংশ উচ্চশিক্ষায়, ৪ শতাংশ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে, ৫ শতাংশ বিসিএস (ফিশারিজ) ক্যাডারে, ৩৫ শতাংশ সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং ৩৭ শতাংশ এনজিও ও সংশ্লিষ্ট বেসরকারি খাতে কর্মরত রয়েছেন।
অনুষ্ঠানের শেষে বক্তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতা ও ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ব্লু ইকোনমির বিকাশে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ