বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখার উদ্যোগে নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সূত্রমতে, প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় নবীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল কোরআন, অনুপ্রেরণামূলক বই, ফুল, টি-শার্ট, স্ন্যাকস, ওয়ালেটসহ বিভিন্ন উপকরণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “তোমাদের জন্য আমার কিছু পরামর্শ থাকবে। বিভাগের সিজিপিএ সর্বোচ্চ করার চেষ্টা করতে হবে, ভাষা শিখতে হবে, শিক্ষকের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে। সিজিপিএর সঙ্গে ভালো কিছু দক্ষতা যুক্ত করতে হবে।”
ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতি বাদ দেওয়া ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কোড অব কনডাক্ট থাকা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পলিসির অধীনে পলিটিক্স চলা উচিত। মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে না ফেলে তা নিরাময় করতে হবে। এ জন্য আমরা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছি। এখানে প্রত্যেক রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব আইডিওলজি শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা তা গ্রহণ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে। কিন্তু কাউকে জোর করে কোনো মাদার পার্টির পারপাস সার্ভ করানো যাবে না।”
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির বলেন, “আমাদের দেশের এক ইঞ্চি মাটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের আঘাত লাগে। এ দেশকে কীভাবে সাজাতে হবে, তা আমাদের জানতে হবে। তোমাদের অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশকে স্বাধীনভাবে ও সুন্দরভাবে সাজানো সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। এর অন্যতম কারণ, আমরা প্রয়োজনীয় দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তি তৈরি করতে পারিনি। তাই জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।”
নবীন শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আজকের দিনে কেউ জিন্দাবাদ-মুর্দাবাদ স্লোগান দেওয়ার চেয়ে দেশকে জ্ঞান ও বিজ্ঞানের দিক দিয়ে এগিয়ে নেওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রচলিত ছাত্ররাজনীতি আমাদের শিশু-কিশোরদের মনে এক ধরনের বন্ধ্যাত্বের পরিবেশ সৃষ্টি করে। তোমরা নিজেদের কাউকে ব্যবহার করার সুযোগ দেবে না। শিবিরসহ কোনো সংগঠনকেই তোমাদের ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। স্বাধীন মন নিয়ে সবাইকে বেড়ে উঠতে হবে, যাতে কেউ তাকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে।”
নবীনবরণে অংশ নেওয়া ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাকিব বলেন, “ছাত্রশিবিরের আয়োজন দেখে আসলে আমি অনেক অভিভূত। তারা খুবই সুশৃঙ্খল একটি সংগঠন। আজকে তাদের সার্বিক কার্যক্রম আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, চাকসুর সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট মো. জসিমউদ্দীন সরকার এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ও চবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম রনি।
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ