শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা, আবাসন ভাতা চালু, মেধার ভিত্তিতে অটোমেশন পদ্ধতিতে হলের সিট বণ্টন, পরিবহনব্যবস্থার সংস্কার এবং চাকসু ও সিনেট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। একই সঙ্গে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হলের সিট দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি। সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি হাবিব উল্লাহ খালেদ।
লিখিত বক্তব্যে ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রায় ছয় দশক পরও অধিকাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত হয়নি। তাঁর দাবি, বর্তমানে ২০ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের আশপাশের কটেজ, মেস ও শহরে উচ্চ ভাড়ায় থাকতে হচ্ছে।
শতভাগ আবাসনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী বিভিন্ন প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীরা বারবার এ দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শতভাগ আবাসনের একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালুরও দাবি করেন।
হলের সিট বণ্টন প্রসঙ্গে ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন করতে হবে। সম্প্রতি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সিট দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিভিন্ন হলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের সুপারিশে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সিট বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য তাঁরা জানতে পেরেছেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসিক সিট পাওয়া মৌলিক অধিকার। রাজনৈতিক বিবেচনায় সিট বরাদ্দ দেওয়া হলে তাঁরা এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন।
পরিবহনসংকটকে আবাসনসংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবাসনসংকটের কারণে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হয়। তাঁদের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পরিবহন নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই আবাসন সমস্যার পাশাপাশি পরিবহনব্যবস্থারও আমূল সংস্কার করতে হবে।
সিট দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে সর্বশেষ অ্যালটমেন্ট হয়েছিল ২০১৭ সালে। এরপর ক্রমান্বয়ে সিট দখলের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ হলগুলো দখল করেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। সম্প্রতি কয়েকটি হলে প্রভোস্টদের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দিয়ে অবৈধভাবে সিট বণ্টনের পথ উন্মোচনের অভিযোগও করেন তিনি।
সোহরাওয়ার্দী হলের সদ্য পদত্যাগকৃত প্রভোস্টের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব হলে প্রভোস্টের মাধ্যমে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ তাঁদের সুবিধা আদায় করতে পারছেন না, তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নিন্দা জানান এবং প্রভোস্টের সঙ্গে ছাত্রদল সেক্রেটারির আচরণের তদন্ত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি করেন।
ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব শেষ হলে বা তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থী না থাকলে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁর জন্য আবাসিক সিট ধরে রাখার সুযোগ থাকা উচিত নয়। হলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য; কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী পুনর্বাসনের জায়গা হিসেবে হলকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আবাসন ভাতা চালু করা, পরিবহনব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার, অটোমেশন প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে হলের সিট বণ্টন এবং অবিলম্বে চাকসু ও সিনেট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক রবিউল ইসলাম, বায়তুলমাল সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা, আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হারেস মাতব্বরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ