রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) পর্যাপ্ত বাস থাকার পরও চালকের অভাবে নতুন তিনটি বাস চালু করা যাচ্ছে না। ফলে পরিবহন সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরের দূরত্ব বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। পাহাড়ি এই পথে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস। তবে আসনসংখ্যার তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষার্থী পরিবহনের কারণে অনেক সময় দাঁড়িয়ে, এমনকি বাসে ঝুলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষায় যেতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নতুন তিনটি বাস বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পরও চালক নিয়োগ না হওয়ায় সেগুলো অচল অবস্থায় পড়ে আছে। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুনতাসিরুল আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, নতুন বাস আসার দুই মাস ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো চালক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, চালক নিয়োগের জন্যও কি শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামতে হবে? দুপুরে দাঁড়িয়ে থাকা স্টাফ বাসটি শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি। পাশাপাশি একটি ভাড়া করা বাস দেওয়া হলেও সেটি রিজার্ভ বাজার পর্যন্ত চলাচল করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মুনতাসিরুল আলম আরও লিখেছেন, দুপুরে রিজার্ভ বাজার পর্যন্ত দুটি বাস দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তার মতে, প্রত্যেক শিক্ষার্থী বাসে বসার সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কেউ যেন নিজেদের গাড়িতে আরাম করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে যাতায়াত করতে না পারেন, সেটিই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী তৌফিক হাসান রাসেল বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। লাইব্রেরি, আবাসন ও শ্রেণিকক্ষ সংকট কোনোভাবে মেনে নেওয়া গেলেও বর্তমানে পরিবহন সংকট শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ফেলছে।
তিনি বলেন, শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরত্ব ক্ষেত্রবিশেষে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। পাহাড়ি এই পথে বাসই শিক্ষার্থীদের প্রধান ভরসা। অথচ অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক সময় বাসে দাঁড়ানোর জায়গাটুকুও থাকে না। নতুন তিনটি বাস এলেও চালক সংকটে সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী জেমি বলেন, রাঙ্গামাটি একটি পার্বত্য এলাকা এবং এখানকার সড়কগুলো উঁচু-নিচু ও আঁকাবাঁকা। এমন পরিস্থিতিতে আসনসংখ্যার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো চলাচল করে। অনেক শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে বা ঝুলে ক্লাস ও পরীক্ষায় যায়। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে এভাবে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কতটা যৌক্তিক, সে প্রশ্ন প্রশাসনের কাছে রাখেন তিনি।
এদিকে রাবিপ্রবির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর আরমান ফেসবুকে লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সার্ভিসের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে না কি না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাস্তার নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার জন্য তারা অপেক্ষা করছেন। নির্মাণকাজ শেষ হলে সেখান থেকে বাসগুলো বের করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে অনুরোধ করেছেন। খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান তিনি।
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ