চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীরাতচর্চা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ-এর জীবনাদর্শ সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী ‘সীরাত গ্রন্থ প্রদর্শনী’ আয়োজন করেছে চিন্তাবৃত্ত।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ অনুষদসংলগ্ন ছাউনিতে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

প্রদর্শনীতে বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও উর্দু ভাষায় রচিত শতাধিক সীরাতগ্রন্থ প্রদর্শন করা হয়। মহানবীর জন্ম, জীবন, চরিত্র, আদর্শ, কর্মময় জীবন ও সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কসহ সীরাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে রচিত নানা ধরনের বই এতে স্থান পায়। দুই দিনের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।

আয়োজকেরা জানান, এটি কোনো বই বিক্রির আয়োজন ছিল না। বিভিন্ন ভাষায় রচিত সীরাতগ্রন্থের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং সীরাত পাঠের প্রতি তাঁদের আগ্রহ তৈরি করাই ছিল প্রদর্শনীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. আ ন ম আব্দুর মাবুদ, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মোরশেদুল হক, ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহিউদ্দিন চৌধুরী, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ চৌধুরী এবং যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতিক উল্লাহ।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রেফায়েত উল্যাহ রুপক, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব, গ্রন্থাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, সহ-সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক জিহাদ আহনাফসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।

তাঁদের মধ্যে ছিলেন চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, চবি ছাত্রসেনার সভাপতি ফরহাদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক দৌলতুল ইসলাম সাকলাইন, চবি ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাবিব উল্লাহ খালেদ, চবি ইসলামী ছাত্র মজলিসের সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমি, গাউছিয়া কমিটি ঢাবি শাখার উপদেষ্টা রাশেদুল বারী, চবি গাউছিয়া কমিটি কলা অনুষদের সভাপতি আবু তৈয়ব এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সভাপতি আবুল কাশেম।

তাঁরা আয়োজকদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

চিন্তাবৃত্তের সদস্য মাহমুদুল হাসান বলেন, “রাসুলের মহান আদর্শকে জানার প্রতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং এর মাধ্যমে রাসুলের আদর্শ, মুহব্বত ও প্রেমকে তরুণ প্রজন্মের অন্তরে ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের সীরাতের সঙ্গে পরিচিত করা এবং মহানবীর জীবন ও আদর্শকে পাঠের মাধ্যমে উপলব্ধি করার সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বিস্তৃত পরিসরে করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

আয়োজকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জ্ঞানচর্চার পরিসরে মহানবীর জীবন ও আদর্শ নিয়ে রচিত বিভিন্ন ভাষার গ্রন্থ একসঙ্গে প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীরাত পাঠের একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও আগ্রহে দুই দিনব্যাপী প্রদর্শনী প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

চিন্তাবৃত্তের এ উদ্যোগকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সীরাতচর্চার নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাসুলের জীবন, আদর্শ ও নবীপ্রেম সম্পর্কে পাঠ ও গবেষণার আগ্রহ আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।