রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে দিনাজপুর জেলা ছাত্র-কল্যাণ সমিতির নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা -২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল, টি-শার্ট ও শিক্ষা সামগ্রী দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত অতিথিদের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান নয়ন এবং প্রবীণদের মধ্যে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাবিল ও তানজিমা শশীর সমন্বিত সঞ্চালনায় এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় হুইপ এবং সভাপতি মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন দিনাজপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আলহাজ্ব সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দিনাজপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আলহাজ্ব সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বলেন, ‘আমাদের প্রকৃত মানুষ হতে হবে। মানুষকে সেবা দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের প্রতি সম্মান অনেকটাই কমে গেছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি পিতা-মাতা এবং শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সম্মান রাখবে।’ তিনি শিক্ষার্থীদের আহ্বান করে বলেন, ‘দিনাজপুর জেলা ছাত্র-কল্যাণ সমিতি যেন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি সংগঠন হয়। ব্যক্তির মতভেদ থাকলেও এই সংগঠনটি যেন সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নবীন ও প্রবীণদের উদ্দেশ্যে দিনাজপুর-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সরকারদলীয় হুইপ এবং সভাপতি মো. আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘আমরা কোন জায়গায় আছি, কী করতে চাই, সেটি আগে নির্ধারণ করতে হবে। প্রত্যেকটি মানুষের দেশের আইনের প্রতি যথাযথ সম্মান থাকতে হবে, আইন মানতে হবে। আমি মানুষ এবং মানুষের সাথেই আমার সবচেয়ে বড় সম্পর্ক থাকবে। আমাদের পিতা-মাতাগণ তাদের ছেলে-সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি যথেষ্ট দায়িত্বশীল নন।’

সরকারদলীয় হুইপ আরও বলেন, ‘নবীন শিক্ষার্থীরা কী হতে চাও, সেটি আগে নির্ধারণ করতে হবে। সর্বদা সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি আদায় করতে হবে। আমাদের সবাইকে কিছু না কিছু করতে হবে। নিজেদের মধ্যে চেষ্টার মানসিকতা থাকতে হবে সর্বোচ্চ। আমাদের ক্ষুদ্র জ্ঞান সৃষ্টিকর্তা যতটুকু দান করেছেন, তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করব। আজকের এই আয়োজনকে আমি স্বাগত এবং আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘দিনাজপুর জেলার মানুষ বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার মানুষের থেকে নম্র, ভদ্র। আজকে উপস্থিত দিনাজপুরের নবীন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে শুধু দিনাজপুরকেই নয়, বরং পুরো বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবেন।’

উপাচার্য বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেট হাজার কোটি টাকার ঊর্ধ্বে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেট মাত্র অর্ধশত কোটি টাকা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৈষম্য মেনে নেওয়ার নয়। আজকে সরকারদলীয় হুইপ যারা উপস্থিত আছেন, আমি আশাবাদী আপনারা সংসদে, প্রধানমন্ত্রী বরাবর এবং প্রয়োজনভেদে ইউজিসিকে আহ্বান করে হলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট নিয়ে কথা বলবেন।’

প্রসঙ্গত, অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ডিরেক্টর মো. কামরুজ্জামান, দিনাজপুরস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।