৩৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ টোটাল ট্যাক্স ইনসিডেন্স (টিটিআই) প্রযোজ্য এমন ‘এপোক্সাইড রেজিন’ হিসেবে পণ্য ঘোষণা করে ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ টিটিআই প্রযোজ্য ‘প্রস্তুত আঠা’ আমদানির চেষ্টা ধরা পড়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বেনাপোল সার্কেলের তৎপরতায় চালানটির সঠিক শ্রেণিবিন্যাস শনাক্ত হওয়ায় ১ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি উদ্‌ঘাটিত হয়েছে। অর্থদণ্ড ও বিমোচন জরিমানাসহ সরকারের মোট অতিরিক্ত আদায় হয়েছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

কায়িক পরীক্ষায় ধরা পড়ে দুই ধরনের রাসায়নিক
এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ওএসএল ফার্মা লিমিটেডের ৩০ হাজার ৩৬০ কেজি নীট ওজনের একটি পণ্যচালান কায়িক পরীক্ষার আওতায় আনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

চালানটির পণ্য ‘এপোক্সাইড রেজিন’ হিসেবে এইচএস কোড ৩৯০৭৩০০০-এ ঘোষণা করা হয়। এ কোডে টিটিআই ৩৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ঘোষিত এইচএস কোড অনুযায়ী চালানটির শুল্ক-কর নির্ধারিত হয় ১ কোটি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭০ টাকা।

তবে কায়িক পরীক্ষায় চালানটিতে দুই ধরনের রাসায়নিক পণ্য পাওয়া যায়। পণ্যগুলোর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে নমুনা পরীক্ষার জন্য খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) পাঠানো হয়।

কুয়েটের পরীক্ষায় বেরিয়ে আসে প্রকৃত পরিচয়
ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রতিবেদনে নমুনা দুটি যথাক্রমে এপোক্সাইড রেজিন ও পলিয়ামাইড রেজিন হিসেবে শনাক্ত হয়। পরীক্ষায় আরও দেখা যায়, নির্দিষ্ট অনুপাতে এ দুটি উপাদান একত্রে মিশ্রিত করলে আঠা তৈরি হয়।

কাস্টমস ট্যারিফের সংশ্লিষ্ট বিধান ও এক্সপ্লানেটরি নোট পর্যালোচনা করে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা চালানটির সঠিক শ্রেণিবিন্যাস নির্ধারণ করেন। এতে দেখা যায়, একই চালানে থাকা দুটি উপাদান পরস্পরের পরিপূরক এবং নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে সরাসরি একটি ফিনিশড পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ফলে পণ্যগুলো ‘প্রস্তুত আঠা’ (Prepared Adhesive) হিসেবে শ্রেণিবিন্যাসযোগ্য।

এর জন্য সঠিক এইচএস কোড নির্ধারণ করা হয় ৩৫০৬৯১৯০, যেখানে টিটিআই ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।
১ কোটি ১৭ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্‌ঘাটন
আমদানিকারকের ঘোষিত এইচএস কোড অনুযায়ী চালানটির শুল্ক-কর ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭০ টাকা। তবে সঠিক এইচএস কোড ও প্রযোজ্য টিটিআই অনুযায়ী হিসাব করে অতিরিক্ত ১ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা ৬ পয়সা রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি উদ্‌ঘাটিত হয়।

পরে কাস্টমস হাউস, বেনাপোলের বিচারাদেশ অনুযায়ী রাজস্ব ফাঁকির অর্থের পাশাপাশি আমদানিকারকের ওপর অর্থদণ্ড ও বিমোচন জরিমানা আরোপ করা হয়।
বিচারাদেশ অনুযায়ী, রাজস্ব ফাঁকি বা অতিরিক্ত শুল্ক-কর হিসেবে আদায় করা হয় ১ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা ৬ পয়সা। এর সঙ্গে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা বিমোচন জরিমানা আদায় করা হয়।

সব মিলিয়ে সরকারের মোট ২ কোটি ৩৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা ৬ পয়সা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে।

কম টিটিআইয়ের কোডে পণ্য ঘোষণার চেষ্টা ব্যর্থ
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তৎপরতায় কম টিটিআই প্রযোজ্য এইচএস কোডে পণ্য ঘোষণার মাধ্যমে বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা প্রতিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

চালানটির ক্ষেত্রে কায়িক পরীক্ষা, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা এবং কাস্টমস ট্যারিফের বিধান যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে পণ্যের প্রকৃত শ্রেণিবিন্যাস নিশ্চিত করা হয়। এতে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের শ্রেণিবিন্যাসের পর।

এম/আর