চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) তেপান্তর সাহিত্য সভার উদ্যোগে লেখালিখি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী ক্লাস ও বিশেষ সাময়িকীর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন লেখক ও বুদ্ধিজীবী ফাহমিদ উর রহমান। তিনি বলেন, “অসম্প্রদায়িকতা-সেকুলারিজমের মতো সেকেলে ডেফিনেশনকে প্রশ্নের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করতে হবে। প্রগতিশীলদের কানে পৌঁছাতে হবে। তরুণরা আগামী দিনের জ্ঞান-তাত্ত্বিক রেনেসাঁ করবে। আমাদের ইতিহাস, আমাদের রেনেসাঁ আমাদেরই তৈরি করতে হবে।”

বিশেষ আলোচক লেখক, গবেষক ও শিক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, “লেখা হলো অভ্যাস বা চর্চার বিষয়। আগে শুরুটা করতে হবে, হোক সেটা আপনি যাদের বিরোধিতা করেন, তাদের সমালোচনার মাধ্যমে।”

এ ছাড়া গবেষক ও শিক্ষক আহমেদ জুবায়ের আলোচনায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন, চবির দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. শিরিন আক্তার, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. মুমিন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব ও গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুমান শোভন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তেপান্তর সাহিত্য সভা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মুহাম্মাদ রিয়াদ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক খাদিজা আফরিন মিতু।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য, কবিতা আবৃত্তি ও বিশেষ সাময়িকীর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অতিথিদের আলোচনা, উপহার সামগ্রী বিতরণ, সংগীত পরিবেশন এবং প্রশিক্ষকদের আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়।

তেপান্তর সাহিত্য সভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তরুণ শিক্ষার্থীদের লেখালিখিতে আগ্রহী করে তোলা, সৃজনশীলতা বিকাশ, সাহিত্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করা এবং নবীন লেখকদের দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যেই এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীল লেখালিখি, মুক্তচিন্তা, পাঠাভ্যাস ও সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা বিস্তারে ধারাবাহিকভাবে কাজ করবে সংগঠনটি।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উম্মে কুলসুম মার্সিয়া ও নুসরাত সুলতানা।