ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন-২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক মো. সোহেল রানা। সম্মেলনে তিনি ‘Leadership for Sustainability: Bangladesh 2041’ শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।
গত ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন লিডারশিপ ইন এডুকেশন (ICLE) ২০২৬’-এর আয়োজন করে ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষক সংগঠন ইকাতান গুরু ইন্দোনেশিয়া (IGI), GEIST International Foundation এবং গ্লোবাল ইনোভেশন অ্যান্ড লিডারশিপ সেন্টার (GILC)।
সম্মেলনে ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, নেপাল ও বাংলাদেশের শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও গবেষকেরা অংশ নেন। এতে অন্যতম বক্তা হিসেবে সোহেল রানা ‘বাংলাদেশ ২০৪১: স্মার্ট, সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জাতি’ বিষয়ের ওপর তাঁর গবেষণা ও প্রেজেন্টেশন তুলে ধরেন।
গবেষণায় তিনি বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের পাঁচটি প্রধান স্তম্ভ—পরিবেশগত, অর্থনৈতিক, সামাজিক, প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সবুজ অর্থনীতি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সোহেল রানা তাঁর উপস্থাপনায় জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), বাংলাদেশের রূপকল্প ২০৪১ এবং ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর সমন্বিত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, এসব পরিকল্পনার কার্যকর সমন্বয় বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও সবুজ অর্থনীতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা থেকে পরিবেশ সচেতনতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা গড়ে তোলা, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সোহেল রানা বলেন, টেকসই পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি হয় শিক্ষাব্যবস্থা থেকে। প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে।
সম্মেলনে তাঁর গবেষণা উপস্থাপনের স্বীকৃতিস্বরূপ আয়োজক প্রতিষ্ঠান ইকাতান গুরু ইন্দোনেশিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তাঁকে ‘ওরাল প্রেজেন্টার’ সম্মাননা ও সনদ প্রদান করা হয়।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ