ডিজিটাল গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধি ও পরিচালন দক্ষতার ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ২৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা পিএলসি। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রবি।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে রবির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪৮ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এ সময়ে মোট রাজস্বের ৯ দশমিক ৪ শতাংশ এসেছে কর-পরবর্তী মুনাফা হিসেবে।

সেপ্টেম্বর শেষে রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৯২ লাখে। এর মধ্যে ইন্টারনেট গ্রাহক ৪ কোটি ৬৮ লাখ এবং ফোর-জি নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারী ৪ কোটি ২৮ লাখ। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানটির সক্রিয় গ্রাহকদের ৭২ শতাংশ ফোর-জি সেবা ব্যবহার করছেন।

তৃতীয় প্রান্তিকে সুদ, কর, অবচয় ও পরিশোধনের আগের আয় (ইবিআইটিডিএ) হয়েছে ১ হাজার ৪১৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে মুনাফার হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে এ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নে বিনিয়োগও অব্যাহত রেখেছে রবি। তৃতীয় প্রান্তিকে এ খাতে প্রতিষ্ঠানটির মূলধনি ব্যয় হয়েছে ৩৪১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রান্তিক শেষে দেশজুড়ে চালু ফোর-জি নেটওয়ার্ক সাইটের সংখ্যা ১৯ হাজার ছাড়িয়েছে।

এ সময়ে সরকারকে রাজস্ব হিসেবে ৭০০ কোটি ৭০ লাখ টাকা দিয়েছে রবি, যা তৃতীয় প্রান্তিকের মোট রাজস্বের প্রায় ২৬ শতাংশ।

তবে আগের প্রান্তিকের সঙ্গে তুলনা করলে কিছু সূচকে পতন দেখা গেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে রবির রাজস্ব কমেছে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে সুদ, কর, অবচয় ও পরিশোধনের আগের আয় কমেছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে রবির মোট রাজস্ব হয়েছে ৭ হাজার ৯২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ সময়ে কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা।

জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট মূলধনি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। এ সময়ে সরকারকে রাজস্ব হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৯৭৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা ওই সময়ের মোট রাজস্বের ৬৩ শতাংশ।

রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের ব্যবসায়িক ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির শক্তিশালী ভিত্তি এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল সংযোগের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেছে। সক্রিয় গ্রাহকদের ৭২ শতাংশ ফোর-জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করাকে বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে রবির অগ্রণী ভূমিকার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

জিয়াদ সাতারা আরও বলেন, নেটওয়ার্কের মান উন্নয়ন, গ্রাহকসেবার অভিজ্ঞতা আরও ভালো করা এবং নতুন ডিজিটাল সেবা চালুর মাধ্যমে গ্রাহকদের উন্নত সেবা দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার ও অন্যান্য অংশীজনের জন্য টেকসই মূল্য সৃষ্টিতে পরিকল্পিত বিনিয়োগ, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

এম/আর