নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহর পেয়েছে তাদের প্রথম মুসলিম মেয়র— জোহরান মামদানি। ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুওমোকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছেন এই তরুণ নেতা।
৩৪ বছর বয়সী মামদানি পেয়েছেন ১০ লাখ ১৮ হাজার ১৯০ ভোট (৫০.৩%), যেখানে কুওমো পেয়েছেন ৮ লাখ ৪১ হাজার ৪৭৬ ভোট (৪১.৬%)। রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া দূরত্বে থেকে পেয়েছেন মাত্র ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪ ভোট (৭.১%)।
ভোটগ্রহণ শুরু হয় স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় এবং শেষ হয় রাত ৯টায়। ভোট শেষ হওয়ার পরপরই বার্তা সংস্থা এপি মামদানির বিজয় নিশ্চিত করে।
নিউ ইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশন জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ১৯৮৯ সালের পর প্রথমবারের মতো ভোটার উপস্থিতি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে— যা শহরের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড।
৮৪ লাখের বেশি মানুষের শহর নিউ ইয়র্ক আজ অর্থনীতি ও সংস্কৃতির বৈশ্বিক কেন্দ্র। সেই শহরের প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং প্রথম আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া মেয়র হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখালেন মামদানি।
ভোটারদের অনেকেই বলছেন, মামদানির বিজয় কেবল ধর্মীয় বা জাতিগত নয়— এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে এক বাস্তব পরিবর্তনের প্রতিফলন।
এনবিসি নিউজ জানায়, মামদানি প্রায় সব জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যেই বিপুল সমর্থন পেয়েছেন। ৪৫ বছরের নিচের ভোটারদের মধ্যে তিনি কুওমোর চেয়ে ৪৩ পয়েন্টে এগিয়ে। ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটারদের মধ্যে কুওমো এগিয়ে ১০ পয়েন্টে। ইহুদি ভোটারদের মধ্যে কুওমো পেয়েছেন ৬০% ভোট, মামদানি ৩১%। মামদানির খোলামেলা ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান ও মুসলিম পরিচয়কে ঘিরে বিরূপ প্রচারণা চললেও, ভোটাররা শেষ পর্যন্ত তাঁকেই সমর্থন দিয়েছেন।
জোহরান মামদানি উগান্ডায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ছোটবেলায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পেশায় ছিলেন কমিউনিটি অর্গানাইজার, পরবর্তীতে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। নিজেকে তিনি পরিচয় দেন “গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী” হিসেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মামদানির এই জয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির রাজনীতিতে এক নতুন প্রজন্মের উত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে—যারা গণমানুষের পক্ষে, এবং প্রচলিত প্রভাবশালী রাজনীতির বাইরে থেকে উঠে আসছে।








আপনার মতামত লিখুন