ঢাবির বাণিজ্য অনুষদের ডিনের হঠকারী সিদ্ধান্তে বিপাকে ভর্তিচ্ছুরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় বিপাকে পড়েছি উচ্চমাধ্যমিকে নেওয়া পরিসংখ্যান বিষয়ের শিক্ষার্থীরা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার এমন কোন শিক্ষার্থীরা আর বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।
ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে স্নাতক এ ভর্তি হতে ইচ্ছুক হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন পত্রিকা জানাচ্ছেন। ঢাবির ঘোষণা অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২৮ নভেম্বর। তবে ভর্তি পরীক্ষার আগে নতুন শর্ত যুক্ত করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে এবার উচ্চমাধ্যমিকে গণিত বিষয় বাধ্যতামূলক করায় পরিসংখ্যান নেওয়া হাজারো শিক্ষার্থী আবেদন করার সুযোগ হারাচ্ছেন।
নতুন শর্তে বঞ্চিত হাজারো শিক্ষার্থী:
ঢাবির ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য উচ্চমাধ্যমিকে ২০০ নম্বরের গণিত (আবশ্যিক/ঐচ্ছিক) বিষয় থাকতে হবে এবং ঐ বিষয়ে ন্যূনতম গ্রেড পয়েন্ট ৩.৫০ থাকতে হবে।
ফলে যেসব শিক্ষার্থী ঐচ্ছিক হিসেবে পরিসংখ্যান নিয়েছিলেন, তারা এবার এই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন করতে পারছেন না।
আগের বছরগুলোতে বিজ্ঞপ্তিতে গণিত অথবা পরিসংখ্যান বিষয় থাকলে আবেদন করা যেত। কিন্তু এবার পরিসংখ্যান বাদ দেওয়ায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ:
ঢাকার একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আদিল আহমেদ ঢাকা মেইলকে বলেন, উচ্চমাধ্যমিকে আমার সাবজেক্ট ছিলো পরিসংখ্যান। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো ঢাবির বাণিজ্য অনুষদে এবার পরিসংখ্যানে শিক্ষার্থীদের ভর্তি সুযোগ দিচ্ছে না। হলে আমার মত বহু শিক্ষার্থী আশাহত হতে হবে। আমাদের দাবি পূর্বের নিয়ম পুনর্বহাল করে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। আনিকা হাবিবা নামে অপর এক শিক্ষার্থী জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এমন সিদ্ধান্ত আগে নিলে আমরা পরিসংখ্যান বিষয় নিতাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠান এমন অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
অভিভাবক মহিউদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, শিক্ষার্থীদেরকেন আগে পরীক্ষায় অংশ সুযোগ দিতে হবে। অহেতুক এমন শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ করা একদম উচিত নয়।
অভিভাবকরাও বলছেন, উচ্চমাধ্যমিকে পরিসংখ্যান নেওয়া শিক্ষার্থীরা সবসময় ভালো ফল করে, কারণ এটি বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়। অথচ এখন তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে।
প্রশাসনের অবস্থান:
এ বিষয়ে ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ও অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম বলেন, সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার থেকে পরিসংখ্যান বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে এক-দুই শতাংশ শিক্ষার্থী বাদ পড়বেন মাত্র, তাদের অন্য ইউনিটে আবেদন করার সুযোগ আছে।
তবে ভর্তিচ্ছুরা ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, এক-দুই শতাংশ নয়, এই সিদ্ধান্তে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রেক্ষাপট :
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল মাত্র ৫৮.৮৩ শতাংশ, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফল প্রকাশের পর গত ২৯ অক্টোবর থেকে ঢাবির আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী— বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য: উচ্চমাধ্যমিকে ২০০ নম্বরের গণিত (আবশ্যিক/ঐচ্ছিক) থাকতে হবে।
মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য: উচ্চমাধ্যমিকে ২০০ নম্বরের অর্থনীতি (আবশ্যিক/ঐচ্ছিক) থাকতে হবে।
অন্যদিকে, গত বছরের বিজ্ঞপ্তিতে ছিল— বিজ্ঞান শাখার জন্য গণিত বা পরিসংখ্যান, মানবিক শাখার জন্য অর্থনীতি বা পরিসংখ্যান — উভয়েই যোগ্য ছিল।
এই পরিবর্তনের ফলে পরিসংখ্যান নেওয়া বিজ্ঞান ও মানবিক শিক্ষার্থীদের ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে ভর্তি হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
অভিভাবকদের দাবি:
পরিসংখ্যান নেওয়া শিক্ষার্থীদের সুযোগ পুনর্বহালের দাবিতে অভিভাবকেরা ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আবেদন জমা দিয়েছেন। তাদের দাবি, ঢাবির মতো প্রতিষ্ঠানের উচিত হবে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিসরকে সংকুচিত না করে বরং আরও বিস্তৃত করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে নতুন ভর্তি শর্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক ও অসন্তোষ। প্রশাসন বলছে এটি একাডেমিক মান উন্নয়নের অংশ, কিন্তু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চোখে এটি অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত। এখন দেখার বিষয়—ঢাবি কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সাড়া দেয় কি না।








আপনার মতামত লিখুন