ডিজিটাল রূপান্তরের ব্যর্থতা কমাতে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান আইসিটি মন্ত্রীর
ডিজিটাল রূপান্তরের বৈশ্বিক যাত্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উদ্যোগ ব্যর্থ হয় উল্লেখ করে এ ব্যর্থতা কমাতে দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বুধবার (২৪ জুন) জর্জিয়ার তিবিলিসিতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস ফোরাম (ইউএনপিএসএফ) ২০২৬-এ আন্তঃআঞ্চলিক প্রকল্পভুক্ত ১২টি দেশের পক্ষে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

এক বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী ককেশাস, মধ্য এশিয়া এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকার, দেশটির স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল ইনফরমেশন সোসাইটি (এনআইএ), ইউএনডিপি এবং আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, পিয়ার-টু-পিয়ার এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা এখন আর শুধু উন্নয়নের অনুষঙ্গ নয়, বরং উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। এক দেশের সফল উদ্যোগ অন্য দেশের উদ্ভাবন ও অগ্রগতির পথ দেখাতে পারে।
ফোরামের এবারের প্রতিপাদ্য ‘ট্রান্সফর্মিং পাবলিক ইনস্টিটিউশনস: অ্যাডভান্সিং ইনোভেশন, অ্যাকাউন্টেবিলিটি, পার্টিসিপেশন অ্যান্ড ইনক্লুশন’-এর আলোকে তিনি উদ্ভাবন, জবাবদিহিতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রগতি তুলে ধরে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে নাগরিক-কেন্দ্রিক ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে ‘সার্ভিস ডেলিভারি ম্যাচিউরিটি মডেল’ এবং আরও গতিশীল কর্মপদ্ধতির জন্য ‘প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের মানসিক পরিবর্তন এবং রূপান্তরমুখী নেতৃত্ব তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, জনসেবার দক্ষতা ও গুণগত মান বাড়াতে এআই বড় সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এর সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়সংগত ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, ইউএনডিপির সহযোগিতায় বাংলাদেশ জনসেবা, নীতিনির্ধারণ এবং স্যান্ডবক্সিংয়ে এআই ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছে।
ফোরামের ফাঁকে মন্ত্রী কম্বোডিয়ার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ভ্যানডেথ চেয়া, আজারবাইজানের এএসএএন ইনোভেশনস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ভুসাল রুস্তমভ এবং কাজাখস্তানের আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাবের চেয়ারম্যান আলিখান বাইমেনভের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
বৈঠকগুলোতে এটুআইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবার সাফল্য তুলে ধরা হয় এবং এআই ও ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) ভিত্তিক আধুনিকায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনার ফল হিসেবে বাংলাদেশ ও আজারবাইজান নাগরিক-কেন্দ্রিক ডিজিটাল সেবা এবং ডিপিআই উন্নয়নে কাঠামোগত সহযোগিতা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া সরকারি সেবায় এআই ব্যবহার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে যৌথ কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
এ ছাড়া এটুআইয়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলাদেশে একটি নতুন ‘ইনোভেশন এজেন্সি’ প্রতিষ্ঠায় কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাব। সংস্থাটি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব উন্নয়নেও সহযোগিতা করবে।
মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের ডিজিটাল সাফল্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি ভবিষ্যতের স্মার্ট গভর্নেন্স, এআইভিত্তিক প্রশাসন এবং শক্তিশালী ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
সবশেষে তিনি অংশগ্রহণকারী ১২টি দেশের পক্ষ থেকে পারস্পরিক শিক্ষা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ অগ্রগতির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে একটি ফলপ্রসূ ও অনুপ্রেরণাদায়ী ফোরামের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এম/আর








আপনার মতামত লিখুন