হল প্রশাসনের নির্দেশও অমান্য, নোবিপ্রবিতে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে কক্ষ দখলের অভিযোগ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হল প্রশাসনের বরাদ্দ দেওয়া সিটে নতুন শিক্ষার্থীরা উঠতে না পারার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কক্ষ দখলের অভিযোগ উঠেছে। এতে হলের আবাসন ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মালেক উকিল হলের ৪০২ নম্বর কক্ষের কয়েকজন আবাসিকের শিক্ষাজীবন শেষ হওয়া ও দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার কারণে তাদের সিট বাতিল করা হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী কক্ষটিতে নতুন শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ দেওয়া হলেও তারা সেখানে উঠতে পারেননি।
অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ওই কক্ষে অবস্থান করায় নতুন বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা রুমে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে তারা এখনও গণরুমে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে নতুন করে বরাদ্দ পাওয়া অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও আবাসন সংকটে পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, প্রায় দুই মাস আগে সিট বরাদ্দ পেলেও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে এখনও নির্ধারিত কক্ষে উঠতে পারেননি। বিষয়টি জানিয়ে হল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রশাসন বিকল্প হিসেবে অন্য দুটি কক্ষে ওঠার পরামর্শ দেয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, নোবিপ্রবি ছাত্রদল হল বা কক্ষ দখলের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।
কেউ যদি বৈধভাবে বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষার্থীকে কক্ষে উঠতে বাধা দিয়ে থাকে, তাহলে হল প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে। এমন অভিযোগ প্রথমবারের মতো শুনেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তসলিম মাহমুদ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযুক্তদের কক্ষ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা মানেননি। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং কোনো ধরনের অবৈধ দখলদারিত্ব বরদাশত করা হবে না।








আপনার মতামত লিখুন