চট্টগ্রামে ১৭ দিনের মাথায় সদরঘাট থানার ওসি প্রত্যাহার, প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটার ঘিরে আলোচনা

চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৭ দিনের মাথায় পরিদর্শক মুহাম্মদ শরীফকে প্রত্যাহার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বগুড়ার সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পাঠানো একটি আধা সরকারি (ডিও) চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত রোববার সন্ধ্যায় সিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে ওসি মুহাম্মদ শরীফকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। সোমবার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ভিন্ন নির্বাচনী এলাকার একজন সংসদ সদস্যের সুপারিশে চট্টগ্রামের একটি থানার ওসিকে প্রত্যাহারের ঘটনা প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
সিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর ওসি মুহাম্মদ শরীফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন উপ-পুলিশ কমিশনারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পক্ষপাত, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটার পাঠান। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখা থেকে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। ওই চিঠির সূত্র হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটারের উল্লেখ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ওসি মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে গৃহীত ব্যবস্থা মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন সিএমপির এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখা থেকে মুহাম্মদ শরীফকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকেও সেখান থেকে প্রত্যাহার করে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) সংযুক্ত করা হয়েছিল। তিনি ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ।








আপনার মতামত লিখুন