জাকসুর উদ্যোগে ‘স্মৃতিতে জুলাই: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ, আহতদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা এবং জুলাইয়ের চেতনা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর উদ্যোগে ‘স্মৃতিতে জুলাই: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেল ৩টায় জাকসুর কাউন্সিল কক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, সাভার অঞ্চলের শহীদ পরিবারের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও প্রেসক্লাবের সদস্য এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনা সভায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা জুলাই আন্দোলনে শহীদদের অবদান, তাদের স্মৃতিচারণ এবং আন্দোলন-পরবর্তী বাস্তবতা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি নিজেদের প্রত্যাশার কথাও ব্যক্ত করেন তারা। অপরদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের দিনগুলোর অভিজ্ঞতা, আত্মত্যাগের স্মৃতি এবং পরবর্তী সময়ের নানা বাস্তবতা তুলে ধরেন।
এ সময় বক্তারা আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার ও আহতদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, শহীদ পরিবারের দীর্ঘদিনের না-বলা কথাগুলো শোনা এবং তাদের প্রত্যাশা সম্পর্কে জানা ছিল এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম, সাহসিকতা ও অপূর্ণ প্রত্যাশার বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে এসেছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতের যেকোনো ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সবাই ঐক্যবদ্ধ ও আপসহীন থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ভবিষ্যতেও জুলাইকে কেন্দ্র করে এ ধরনের স্মারক ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও সাভার অঞ্চলের ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, ১৫ জুলাই ক্যাম্পাসের ঘটনাপ্রবাহ, ২০ জুলাই কারফিউ চলাকালীন আন্দোলন এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সাভারের ঘটনাবলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। শহীদদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ছাড়া একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আহ্বায়ক ও জাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. রায়হান উদ্দীন বলেন, জুলাইয়ের সাহস, আত্মত্যাগ ও অনুপ্রেরণাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং শহীদ ও আহতদের স্মৃতি সংরক্ষণই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। দেশ গঠনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত ট্রেজারার অধ্যাপক সোহেল রানা, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দকার লুতফুল এলাহী, বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও প্রেসক্লাবের সদস্য, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে জাকসুর পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ ও আহতদের অবদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেই চেতনাকে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।








আপনার মতামত লিখুন