চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চবিতে ৫২০টি গাছ রোপণ
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসকে আরও সবুজ করতে তিনটি আবাসিক হলে ৫২০টি গাছ রোপণ করা হয়েছে। চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল, অতীশ দীপঙ্কর হল ও শামসুন্নাহার হলে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সোহরাওয়ার্দী হল থেকে কর্মসূচির শুরু হয়। এতে সহযোগিতা করে আওয়ার গ্রিন ক্যাম্পাস ও ইয়ুথ থ্রি-আর সোসাইটি, চবি।
কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা যখন একটি গাছ লাগাই, এটি শুধু একটি গাছ নয়, এটি একটি জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে। শুধু মুখে পরিবেশের কথা বললে হবে না, পরিবেশ সংরক্ষণে কাজও করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নয়নও চাই, পরিবেশও চাই। দুটির মধ্যে সমন্বয় করে কাজগুলো এগিয়ে নিতে হবে। পরিবেশকে বাদ দিয়ে শুধু উন্নয়নকে সামনে রাখলে পরিবেশ ধ্বংস হবে। আবার অতিরিক্ত পরিবেশবাদী হয়ে উন্নয়নকে পুরোপুরি উপেক্ষা করলেও উন্নয়ন ব্যাহত হবে।’
চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও ‘বৃক্ষসখা’ হিসেবে পরিচিত শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, একটি গাছ রোপণ করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। গাছটির যত্ন ও পরিচর্যার জন্য অভিভাবকত্ব প্রয়োজন। সেই অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করে গাছ রোপণ করা হলে তা টিকে থাকবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক গাছ আছে। তবে গাছের বৈচিত্র্য কতটা আছে, সেটিও ভাবা উচিত। দুর্লভ প্রজাতির গাছগুলোকে এখানে জায়গা দেওয়া দরকার।’
তিনি আরও বলেন, দেশ থেকে হারিয়ে যেতে বসা অন্তত পাঁচটি দুর্লভ প্রজাতির গাছ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রোপণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
পরিবেশ সংরক্ষণে প্রচারের চেয়ে কাজকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘আমরা পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করব। এটি প্রচার হোক বা না হোক, কাজ করে যাব।’
চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, গত আট বছরে দেশের ৩৫টি জেলায় দুই লাখের বেশি গাছ রোপণ করেছে সংগঠনটি। এ কার্যক্রমে দেশজুড়ে চার শতাধিক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির গাছ সংরক্ষণ, নদী ও পাখি সংরক্ষণ নিয়েও কাজ করছে সংগঠনটি।
কর্মসূচিতে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট আব্দুল মান্নান, শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. বেগম ইসমত আরা হক, অতীশ দীপঙ্কর হলের প্রভোস্ট এ.জি.এম. নিয়াজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও হল সংসদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।








আপনার মতামত লিখুন