র্যাগিং-হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি সুস্পষ্ট ধারণার তাগিদ ববি উপাচার্যের

র্যাগিং, যৌন হয়রানি ও অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রতিরোধে সচেতনতা ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তবে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সঠিক সংজ্ঞা ও সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন, যাতে কাউকে অযথা হয়রানি বা ভুল বিচারের শিকার হতে না হয় বলে মন্তব্য করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য ড. মো. মামুন অর রশীদ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ববি উপাচার্যের সভাকক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, হয়রানি ও বৈষম্যমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্নয়ন সংস্থা ব্রাক-এর যৌথ উদ্যোগে ‘সেইফগার্ডিং’ বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। সূচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, একটি সুন্দর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক পরিবেশ কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। আগামী দুই বছর ব্র্যাকের সঙ্গে পারস্পরিক মতবিনিময় ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।এর মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে মুক্ত একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে গঠিত অভিযোগ কমিটির আহবায়ক ড. রেহানা পারভীন, সদস্য-সচিব হোসেনেয়ারা ডালিয়া, সদস্য ড. সরদার কায়সার আহমেদ এবং ব্রাকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স বিভাগের পরিচালক আ ফ ম সাহিদুর রহমান, সিনিয়র ম্যানেজার সৈয়দ আমিন আল আনাস, ইশতিয়াক জাহান শোয়েফ, আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং রাশেদ-উজ-জামান ভুইয়া। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, বিভাগীয় প্রধানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকমন্ডলী।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর অর্থায়নে পরিচালিত ‘শিখা’ প্রকল্পের আওতায় ব্রাক আগামী দুই বছর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করবে।
আগামী দুই বছর মেয়াদি এই কার্যপরিকল্পনার আওতায় ক্যাম্পাসে বুলিং, যৌন হয়রানি, র্যাগিং এবং কর্মক্ষেত্রের বৈষম্য প্রতিরোধে একাধিক ধাপভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সেইফগার্ডিং নীতিমালার ওপর প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যদের জন্য সচেতনতামূলক ওরিয়েন্টেশন, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও বুলিং প্রতিরোধের ওপর শর্ট ফিল্ম প্রতিযোগিতা ও উৎসব আয়োজন করা হবে।








আপনার মতামত লিখুন