দীর্ঘ একযুগ পর শরতের কাশফুলে সাজেনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

শরৎ এলেই প্রকৃতি যেন সাদা রঙে নিজেকে নতুন করে সাজায়। নদীর পাড়, খোলা মাঠ কিংবা গ্রামের মেঠোপথের ধারে বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল জানান দেয়— শরৎ এসেছে। নীল আকাশের নিচে সারি সারি সাদা কাশফুল দেখতে মনে হয় মাটির বুকে যেন এক টুকরো সাদা মেঘ নেমে এসেছে। তাইতো শরতের বন্দনায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিমোহিত হয়ে লিখেছেন—
“শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি
ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি।”
আর সেই শরতের কাশফুলে প্রায় একযুগ ধরে প্রাণমুগ্ধ হয়ে এসেছে দক্ষিণ বঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। কীর্তনখোলা নদী তীরঘেঁষা কর্ণকাঠি গ্রামের ৫০ একর সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির মাঝে ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে কার্যক্রম শুরু করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ছায়াঘেরা নির্মল পরিবেশে প্রতি গ্রীষ্মে কৃষ্ণচূড়া, জারুল ও সোনালু ফুল ফোটে এ ক্যাম্পাসে। এছাড়া বর্ষায় কদম, শরতে কাশফুল, হেমন্তে শিউলি, কাঞ্চন-ছাতিম ফুলে ভাসে ক্যাম্পাস। শীতে গাঁদা ফুল আর বসন্তে পলাশ তার স্নিগ্ধতা ছড়ায়।
কিন্তু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের শরৎকালটা একটু ব্যতিক্রম হতে যাচ্ছে। থাকছে না মাঠজুড়ে কাশফুলের সেই চিরচেনা সাদা ঢেউ। প্রতি বছর শরৎ এলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনের মাঠ জুড়ে ফুটে থাকা কাশফুল ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিত। নীল আকাশের নিচে বাতাসে দুলতে থাকা সাদা কাশ যেন শরতের আগমনের বার্তা নিয়ে আসত। তবে এবার সেই পরিচিত দৃশ্যটি আর দেখা যাবে না। মাঠ তৈরির কাজের কারণে কাশফুলগুলো হারিয়ে গেছে। শরৎ এসেছে ঠিকই কিন্তু ববির শরৎ এবার তার চেনা সাদা সৌন্দর্যটুকু ছাড়াই।
সংস্করণের ফলে মাঠটি হয়তো নতুন করে প্রাণ পাবে আর শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হবে। তবুও প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে একটা আক্ষেপ থেকেই যাবে। কারণ উন্নয়নের এই ব্যস্ততায় হারিয়ে গেছে শরতের সেই চেনা সাদা কাশফুলের মায়া। নীল আকাশের নিচে বাতাসে দুলতে থাকা কাশের সারি হয়তো আর ববির মাঠের সৌন্দর্য হয়ে উঠবে না।
সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই বদলায় কিন্তু কিছু সৌন্দর্য হারিয়ে গেলে তার শূন্যতাটা থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের শরৎও হয়তো তেমনই— শরৎ এসেছে কিন্তু আসেনি কাশফুল।
রিফাতুল ইসলাম রায়হান
লোকপ্রশাসন বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।








আপনার মতামত লিখুন