জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন ‘নতুন ইনক্রিমেন্ট’!
চলতি অর্থবছরের শুরুতেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এসেছে বড় চমক। ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ‘বিশেষ সুবিধা’ নামে একটি অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা চালু করছে সরকার, যা কার্যত একটি ‘গোপন ইনক্রিমেন্ট’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি-৩ শাখা থেকে আজ জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, জাতীয় বেতনস্কেলে গ্রেডভেদে মূল বেতনের ১০% থেকে ১৫% হারে এই বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হবে।
কারা পাচ্ছেন এই সুবিধা?
গ্রেড ১–৯: মূল বেতনের ১০% হারে
গ্রেড ১০–২০: মূল বেতনের ১৫% হারে
চাকরিরতদের জন্য সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা এবং পেনশনভোগীদের জন্য সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা হারে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনও প্রথাগত ইনক্রিমেন্ট নয়, তবে বার্ষিক ভিত্তিতে পুনরাবৃত্ত সুবিধা হিসেবে এটি কার্যত একটি নতুন ভাতা কাঠামো দাঁড় করাবে, যা বেতন কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
পাবেন যারা-
নিয়মিত সরকারি কর্মচারী
অবসর-উত্তর ছুটিতে (PRL) থাকা কর্মচারী
পেনশনভোগী ও পুনঃস্থাপনকৃত পেনশনার
চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত (নির্দিষ্ট শর্তে)
সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মচারী (৫০% বেতনের ভিত্তিতে)
পাবেন না যারা-
বিনা বেতনে ছুটিতে রয়েছেন
১০০% পেনশন উত্তোলন করে এখনো পুনঃস্থাপিত হননি অর্থায়ন কোথা থেকে?
সরকারি রাজস্ব বাজেট থেকে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া সব স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই বাড়তি ব্যয় নিজস্ব বাজেট থেকেই বহন করতে হবে।
পুরোনো আদেশ বাতিল:
এ প্রজ্ঞাপনার মাধ্যমে অর্থ বিভাগের ১৮ জুলাই ২০২৩ তারিখের পূর্বের আদেশ বাতিল করা হয়েছে।
কার্যকর:
১ জুলাই ২০২৫ থেকে এই সুবিধা কার্যকর হবে, যা প্রতিবছর একই দিনে প্রযোজ্য থাকবে।
বিশ্লেষণ: অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বিশেষ সুবিধা সরাসরি ইনক্রিমেন্ট না হলেও, সরকারের স্মার্ট উপায়ে কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পদক্ষেপ। এতে বেতন কাঠামোর ভারসাম্য বজায় রেখেই কর্মচারীদের সন্তুষ্ট রাখা সম্ভব হবে।








আপনার মতামত লিখুন