টাকা ছাড়াই প্লেসমেন্ট শেয়ার দিয়েছিল এক্মি পেসটিডাইস
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের বছর ২০২০ সালে টাকা ছাড়াই প্রভাবশালী আট ব্যক্তি ও সাত প্রতিষ্ঠানকে ১৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার দিয়েছিল এক্মি পেসটিসাইডস। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি গঠিত তদন্ত কমিটি এমন প্রমাণ পেয়েছে। বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিএসইসি জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে তদন্ত প্রতিবেদনসহ চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ঘটনায় আইপিও ইস্যু ম্যানেজার শাহ্জালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের লাইসেন্স বাতিল এবং আইপিও-পূর্ব অডিটর সিরাজ খান বসাক ও সফিক বসাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিরীক্ষকদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফআরসিকে চিঠি দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিএসইসি যাদের বিরুদ্ধে টাকা ছাড়াই শেয়ার নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তাদের অন্যতম ‘ছাগলকাণ্ড’খ্যাত এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমান, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এসকে ট্রিমস এবং এ কোম্পানির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন ফরহাদ মিলে ৫২ লাখ শেয়ার নিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন (ডিজিএফআইর তৎকালীন পরিচালক) নিয়েছেন ১ লাখ শেয়ার। জাবেদ এ মতিন ৪ লাখ শেয়ার নেন। এ কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন করে শিবলি কমিশন। এর বাইরে মার্চেন্ট ব্যাংক এনআরবি ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট দুটি অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ, বিক্রমপুর পটেটো ফ্ল্যাকস ইন্ডাস্ট্রিজ ২৮ লাখ, চিটাগং পেসটিসাইডস অ্যান্ড ফিসারিজ ১৪ লাখ ৭১ হাজার, হেরিটেজ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ১০ লাখ ৩০ হাজার শেয়ার নিয়েছে। ব্যক্তিদের মধ্যে আফজাল হোসেন ২ লাখ ৯৪ হাজার, আঞ্জুমান আরা বেগম সাড়ে ৫ লাখ, রানু ইসলাম সাড়ে ৩ লাখ, তৌহিদা আক্তার ১ লাখ এবং রুহুল আজাদ নামের এক ব্যক্তি ৫০ হাজার শেয়ার নিয়েছেন।
এক্মি পেসটিসাইডস ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আইপিও প্রক্রিয়ায় ৩ কোটি শেয়ার বিক্রি করে ৩০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহের অনুমতি পায়। এর পর ওই বছরের অক্টোবরে আইপিও প্রক্রিয়ায় টাকা তুলে নভেম্বরে তালিকাভুক্ত হয়।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটির ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৩ কোটি টাকা। পরের বছর ৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা এবং আইপিওতে আসার আগের বছর ২০২০ সালে আরও ৯৫ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ দেখানো হয় কাগজে-কলমে।
এ বিষয়ে জানতে এক্মি পেসটিসাইডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা-উর-রহমান সিনহাকে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি। কোম্পানির চেয়ারম্যান শান্তা সিনহা বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো কথাই বলবেন না।
এদিকে তালিকাভুক্ত সোনালি পেপারের শেয়ার নিয়ে কারসাজি করে মুনাফা করার দায়ে অন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানি জেনেক্স ইনফোসিসের ৯ পরিচালক এবং এক সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে মোট ১১ কোটি ৮২ লাখ টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। জেনেক্স ইনফোসিসের চেয়ারম্যান টিআইএম নুরুল কবির, ভাইস চেয়ারম্যান প্রিন্স মজুমদার, ভারপ্রাপ্ত এমডি শাহ জালাল উদ্দিন, ওরাকল সার্ভিসেসের পক্ষে পরিচালক হাসান শহিদ সারোয়ার, পরিচালক আদনান ইমাম, নিলোফার ইমাম ও চৌধুরী ফজলে ইমাম এবং দুই স্বতন্ত্র পরিচালক রোকেয়া ইসলাম ও জাহরুল সৈয়দ বখ্তকে ১ কোটি ৩ লাখ টাকা করে মোট ৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। এছাড়া জেনেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে জরিমানা করা হচ্ছে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।








আপনার মতামত লিখুন