পেকুয়া রাজাখালীতে যুবদের অংশগ্রহণে মক ভোটিং ও ভোটার এডুকেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বিশেষ করে যুবসমাজ—যারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে—গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত না হলে টেকসই গণতন্ত্র নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এই বাস্তবতা সামনে রেখেই যুবসমাজকে দায়িত্বশীল ও সচেতন ভোটার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় রাজাখালীতে আয়োজন করা হয় মক ভোটিং ও যুব অরিয়েন্টেশন কর্মসূচি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা আইএফইএস-এর সহযোগিতায় আইএসডিই বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে রাজাখালী ফয়জুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয় “ভোটার এডুকেশন: যুব অরিয়েন্টেশন ও মক ভোটিং” শীর্ষক এ কর্মসূচি। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গণতন্ত্রকে কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হলে তরুণদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সচেতন ও সক্রিয় করে তুলতে হবে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএফইএস-এর ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর রোমানা আমিন অর্চি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই-এর নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন এবং আইএফইএস-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার কানিজ ফাতেমা।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন কলেজের প্রভাষক মঈন উদ্দিন, প্রভাষক মো. নুরুল আমিন, আইএসডিই-এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জাহাঙ্গীর আলম, মনিটরিং অ্যান্ড লার্নিং অফিসার সুম্পম বডুয়া, কর্মসূচি কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, জালাল উদ্দিনসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা আরও বলেন, যুবসমাজই একটি দেশের গণতন্ত্রের মূল শক্তি। সচেতন ও দায়িত্বশীল ভোটার তৈরির মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্যে গণভোট ও ভোটাধিকার বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি জরুরি, যাতে কেউ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।
কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মক ভোটিং প্রদর্শন। এতে নাগরিক হিসেবে ভোটারের দায়িত্ব, ভোটদান প্রক্রিয়া, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব এবং নির্বাচনকালীন ভ্রান্ত তথ্য (মিসইনফরমেশন) থেকে সচেতন থাকার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। হাতে-কলমে মক ভোটিং অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব ভোট প্রদানের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা নতুন ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভোটার এডুকেশন সংক্রান্ত লিফলেট ও তথ্যবহুল উপকরণ বিতরণ করা হয়। এ কর্মসূচিতে কলেজের ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও দেশের দুর্গম, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত করা এবং ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।








আপনার মতামত লিখুন