শিক্ষক সংকটে বিপর্যস্ত গোবিপ্রবি: নিয়োগ স্থগিত রাখায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম হুমকিতে

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর বিভিন্ন বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম। গণমাধ্যমে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) গত ২ ডিসেম্বর সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে অনুরোধ জানায়।
নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ও ইউজিসির আপত্তি,
ইউজিসির চিঠিতে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগে চাপ প্রয়োগ, বোর্ড সম্পন্ন হওয়ার আগেই রেজুলেশনে স্বাক্ষর গ্রহণ, আর্থিক অনিয়ম, কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী মনোনয়ন এবং লিখিত পরীক্ষা না নিয়ে নিয়োগ সম্পন্ন করার মতো একাধিক অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরদিনই নিয়োগপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান, ডিন ও শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ইউজিসিতে হাজির হয়ে দাবি করে—নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি।
তদন্ত কমিটি গঠন হলেও অগ্রগতি নেই
ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগ যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটির কার্যক্রম শুরুতে ধীরগতির হওয়ায় আহ্বায়ক পরিবর্তন করে পুনরায় নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ—নিয়োগ স্থগিত রেখে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করায় সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।
ইউজিসির বক্তব্য
ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন খান বলেন, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর—বিশেষ করে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি। সেগুলোর সুরাহা না করে নতুন নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হলে কমিশনই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে অভিযোগকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উপাচার্যের পাল্টা বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দীন শেখর বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি, কেবল সুপারিশ পর্যায়ে রয়েছে। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, বোর্ডে উপস্থিত বিশেষজ্ঞ সদস্যদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি ওঠেনি এবং ইউজিসিও লিখিত অভিযোগের কপি দেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগবিহীন বোর্ডগুলোর নিয়োগও আটকে রাখা অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষক সংকটে বিপর্যস্ত শিক্ষা কার্যক্রম
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে গোবিপ্রবিতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ২০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৩০৪ জন, যাদের একটি বড় অংশ আবার শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। ফলে বহু বিভাগে একজন বা দুজন শিক্ষক দিয়েই পাঠদান চালাতে হচ্ছে। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং ভয়াবহ সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।








আপনার মতামত লিখুন