কৃষির অগ্রগতি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি খাতের উন্নয়নই দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির প্রধান শর্ত বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ। তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। তাই কৃষির উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক অগ্রগতিও নিশ্চিত হবে।
রবিবার দুপুরে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা–তে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মাঠ ও খামারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে কৃষির বাস্তব সমস্যাগুলো তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ড. আখতার হামিদ খান কৃষির আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বিভিন্ন দেশে কৃষকেরা কীভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেন, তা তুলে ধরে তিনি কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতেন। সেখান থেকেই কৃষির আধুনিক রূপান্তর নিয়ে নিজের আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, খুব শিগগিরই কৃষি কার্ড চালু করা হবে। বর্তমানে দেশে কৃষকদের সমন্বিত ও নির্ভুল তথ্যভাণ্ডারের অভাব রয়েছে। কৃষি কার্ড চালুর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকের তথ্য সংগ্রহ সহজ হবে এবং সরকারি সহায়তা কার্যক্রম আরও লক্ষ্যভিত্তিক করা যাবে।
পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত ঘাস উৎপাদন হলেও পশুখাদ্যের দাম বেশি কেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার। মাঠপর্যায় থেকে সমস্যার উৎস শনাক্ত করে বাস্তবসম্মত সমাধান নেওয়া হবে, যাতে খামারিরা ন্যায্য দামে খাদ্য পেতে পারেন এবং উৎপাদন ব্যয় কমে আসে।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও টেকসই করতে সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যা তাদের আর্থিক চাপ কমিয়ে উৎপাদনে নতুন গতি আনবে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষি কার্ড চালুর কাজও এগিয়ে চলছে।
কর্মশালায় জানানো হয়, প্রাণিসম্পদ সেবা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারা দেশে ৪৭৫টি মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক কেনা হয়েছে। এসব যানবাহন বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে প্রাণী চিকিৎসা ও পরামর্শ সেবা দিচ্ছে।
এছাড়া প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় লাইভস্টক ফার্মার্স ফিল্ড স্কুল, প্রশিক্ষণ, টিকাদান, রোগ নজরদারি, কৃত্রিম প্রজনন এবং খামারি প্রোফাইলিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। খামারিদের ব্যাংক হিসাব খোলা ও সমবায় সঞ্চয়ের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনা হয়েছে।
প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১৩৫টি ওয়েট মার্কেট নির্মাণ ও হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৩টি জেলা শহরে আধুনিকমানের জেলা কসাইখানা নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে জানানো হয়।
কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মোস্তফা কামাল এবং স্বাগত বক্তব্য ও মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








আপনার মতামত লিখুন