চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহর ওপর অতর্কিত হামলা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ’র উপর ব্লেড এবং ক্ষুর দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষুরের আঘাতে তাঁর চোখের উপরের অংশ কেটে যায়।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ৮টার দিকে হাটহাজারী থেকে বাইকের তেল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসার পথে এই ঘটনা ঘটে।
হামলায় মাসুম বিল্লাহ হাতে, পায়ে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। চোখের উপরে ক্ষুরের আঘাতে কেটে যেতেও দেখা যায়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাসুম বিল্লাহ লিখেন,
‘‘গত ৪ মার্চ ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গুরুতর আহত করে চলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমঝোতা না করে শিক্ষার্থীদের উপরে সমঝোতার দায়িত্ব দেওয়া হয়। যার ফল আজকে সমঝোতাকারী হিসেবে হামলার সম্মুখীন হতে হয়। ব্লেড এবং ক্ষুর দিয়ে শেষ প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করে।’’
এ বিষয়ে চাকসুর নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘‘আমরা একসাথে চাকসুতে ছিলাম। সেখান থেকে মাসুম বাইকে তেল নেওয়ার জন্য হাটহাজারী গিয়েছিল। ওরা (হামলাকারীরা) সম্ভবত ওখান থেকেই অনুসরণ করেছে। পরে রাস্তা আটকিয়ে ওকে অনেক মারধর করে। ওদের সাথে ক্ষুর ছিল। হাতে পায়ে মাথার উপরে অনেক আঘাত করেছে। এরপর চোখের উপরে ক্ষুরের আঘাতে কেটে গেছে। মাসুমের সঙ্গে থাকা তার ভাগ্নেকেও মারধর করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘‘যাঁরা হামলা করেছে তাদের মধ্যে দুইজন কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে বাইক দিয়ে ঘুরতে এসে এক শিক্ষার্থীকে আহত করে। ঐ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের হয়ে সমঝোতার জন্য মাসুম কাজ করেছিল। ওখান থেকেই মাসুমকে টার্গেট করেছে মনে হচ্ছে।’’
জানা গেছে, গত ৪ মার্চ মো. আরিফুল ইসলাম নামের এক বহিরাগত মোটরসাইকেল দিয়ে ধাক্কা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান রাজ আহত হন। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে সমঝোতায় ভূমিকা রাখেন মাসুম বিল্লাহ। সমঝোতা অনুযায়ী আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা আরিফুলের কাছ থেকে আদায় করা হয় এবং পরবর্তী চিকিৎসা ব্যয় বহনের শর্তে মুচলেকা দেন আরিফুল ইসলামের বাবা। এছাড়া আহত শিক্ষার্থী সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত মোটরসাইকেলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের হেফাজতে রাখার শর্তও ছিল।
চবি মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, আহত মাসুম বিল্লাহকে কয়েকজন শিক্ষার্থী মেডিকেলে নিয়ে আসেন। তাঁর চোখের ওপর ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একজনকে মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে চেষ্টা চলছে।”








আপনার মতামত লিখুন