তরুণদের সামাজিক নেতৃত্ব বিকাশে নোবিপ্রবিতে ‘আমরা নতুন নেটওয়ার্ক’ চেঞ্জমেকার কোহর্ট সম্পন্ন
ব্র্যাকের সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ৪৮ শিক্ষার্থীর প্রশিক্ষণ; প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সাতটি সামাজিক প্রকল্প বাস্তবায়ন

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ব্র্যাকের সহযোগী সংগঠন ‘আমরা নতুন নেটওয়ার্ক’-এর চেঞ্জমেকার কোহর্ট। গত ১২ এপ্রিল শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পান।
কয়েক ধাপের প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সাতটি দলে ভাগ করা হয়। প্রতিটি দলকে সমাজের পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে একটি করে সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দলগুলো বেদে সম্প্রদায়ের উন্নয়ন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, পুনর্ব্যবহার এবং টেকসই জীবিকায়নসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে কাজ করে।
উদ্যোগ বাস্তবায়নকারী দলগুলোর মধ্যে ছিল বেদে কারুকুঞ্জ, নারিকেল, নারুকারু, স্বপ্ন বুনন, ইকো স্পার্ক, বুনিয়ানা এবং হিডার পাঁচালি। আয়োজকদের মতে, এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামাজিক উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রতি ‘আমরা নতুন নেটওয়ার্ক’ থেকে গ্র্যাজুয়েট হওয়া শিক্ষার্থী সৈকত বলেন, “এই প্ল্যাটফর্ম আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যার সমাধানে মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ ভবিষ্যতে সামাজিক উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।”
আরেক অংশগ্রহণকারী ফারিহা বলেন, “আমরা জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাই সমাজের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতাও রয়েছে। ‘আমরা নতুন নেটওয়ার্ক’ সেই দায়বদ্ধতা বাস্তবায়নের কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।”
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘আমরা নতুন নেটওয়ার্ক’-এর মূল লক্ষ্য তরুণদের বাস্তব সামাজিক সমস্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে সমাধানমুখী নেতৃত্ব ও সামাজিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, আন্তরিকতা ও মাঠপর্যায়ের কাজ ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের বিষয়ে আশাবাদী করেছে।
ব্র্যাক ইউথ প্ল্যাটফর্মের ইউথ কো-অর্ডিনেটর আহনাফ সাফিন বলেন, “গত দুই মাস ধরে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের সম্প্রদায়ের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে টেকসই সমাধান নিয়ে কাজ করেছেন। আজকের পিচ প্রেজেন্টেশন শুধু প্রকল্প উপস্থাপন নয়, বরং তরুণদের নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সামাজিক পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নোয়াখালী অঞ্চলে ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন সূচিত হবে এবং আরও অনেক তরুণ সমাজ উন্নয়নে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত হবে।”
উল্লেখ্য, নোবিপ্রবিতে ‘আমরা নতুন নেটওয়ার্ক’ চেঞ্জমেকার কোহর্ট বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন Coastal Environment Network (CoEN)। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সামাজিক নেতৃত্ব বিকাশের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি কার্যকর মডেল হিসেবে কাজ করবে।








আপনার মতামত লিখুন