চবির আল্পনার জাপানজয়, মেক্সট স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষায় নতুন যাত্রা

ছবি- আমেনা আক্তার আল্পনা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ফিশারিজ বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমেনা আক্তার আল্পনা অর্জন করেছেন জাপান সরকারের মর্যাদাপূর্ণ জাপানিজ গভর্নমেন্ট (MEXT) স্কলারশিপ। এই বৃত্তির আওতায় তিনি জাপানের University of the Ryukyus-এর Special Master’s Program (G-OCEANS)–এ উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও সম্মানজনক এই বৃত্তি অর্জনের মধ্য দিয়ে আল্পনা শুধু নিজের মেধার স্বাক্ষরই রাখেননি, গৌরবান্বিত করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফিশারিজ বিভাগকেও।
স্নাতক পর্যায়ে তিনি ৩.৯৬ সিজিপিএ অর্জন করে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই গবেষণার প্রতি আগ্রহী আল্পনার ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মানের পিয়ার-রিভিউড জার্নালে তিনটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষাগত সাফল্যের পাশাপাশি গবেষণায় তাঁর এই ধারাবাহিক সম্পৃক্ততাই মেক্সট স্কলারশিপ অর্জনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেক্সট (MEXT) স্কলারশিপ জাপান সরকারের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক বৃত্তি কর্মসূচি। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের কঠোর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই বৃত্তির জন্য নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক ভাতা, যাতায়াতের বিমানভাড়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন।
আল্পনা University of the Ryukyus-এর জি-ওশানস (G-OCEANS) বিশেষ মাস্টার্স প্রোগ্রামে সামুদ্রিক বিজ্ঞান ও কোরাল রিফ–সংক্রান্ত বিষয়ে গবেষণার সুযোগ পাবেন। তাঁর গবেষণার মূল আগ্রহ থাকবে জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের কোরাল রিফ নিয়ে।
আল্পনা বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমার বাবা–মায়ের স্বপ্ন ছিল আমি বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন করব। সেই স্বপ্নকে নিজের লক্ষ্য বানিয়ে বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় থেকেই আমি এই স্কলারশিপের জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। তখনই বুঝতে পারি, এই বৃত্তি অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো গবেষণার অভিজ্ঞতা। তাই শুরু থেকেই গবেষণার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার এই পথচলায় সুপারভাইজার ড. আশরাফুল আজম স্যারের দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ ছিল সবচেয়ে বড় প্রেরণা। তাঁর সহযোগিতা ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। আমি তাঁর প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আল্পনা বলেন, “জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের কোরাল রিফ নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করব, তা বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের কোরাল রিফ সংরক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগাতে চাই। দেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গবেষণার মাধ্যমে অবদান রাখাই আমার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আল্পনার এই অর্জন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মেধা, অধ্যবসায়, সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি এবং গবেষণার প্রতি নিষ্ঠা থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্য অর্জন সম্ভব—আল্পনার এই পথচলা সেই বার্তাই নতুন করে তুলে ধরেছে।







আপনার মতামত লিখুন