ছয় দশকেও স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন পায়নি চবি

প্রতিষ্ঠার ছয় দশক পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এখনো নির্মাণ করা হয়নি স্বতন্ত্র কোনো প্রশাসনিক ভবন। পুরোনো লাইব্রেরি ভবনকে প্রশাসনিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করায় ছোট ছোট কক্ষে শিক্ষক (প্রশাসক), কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাদাগাদি করে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীসেবা এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে। বর্তমান প্রশাসনিক ভবনটি একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তীতে লাইব্রেরি নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হলে পুরোনো ভবনটিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।
বর্তমানে এই ভবনে উপাচার্য, দুই উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, হিসাব, কাউন্সিল, তথ্য ও ফটোগ্রাফি, এস্টেটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত ও নির্ধারিত জায়গা না থাকায় প্রশাসনের বিভিন্ন শাখা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। অফিসপ্রধান ও কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক ডেস্কের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও গোপন রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ ছাড়া প্রশাসনিক সেবা নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ভর্তি-সংক্রান্ত কাজ, সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট সংগ্রহ, বৃত্তির কাগজপত্র, আবাসিক হলের দাপ্তরিক কাজ এবং আর্থিক বিষয়সহ বিভিন্ন প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের একাধিক স্থানে যেতে হয়। এতে তাঁদের সময় ও শ্রম দুটিই বেড়ে যায়।
স্বতন্ত্র রেজিস্ট্রার ভবন না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ সভা আয়োজন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মপরিবেশ এবং নথিপত্র সংরক্ষণেও নানা সমস্যা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের একজন শাখা প্রধান (ডেপুটি রেজিস্ট্রার) বলেন, ‘উপাচার্য ও উপাচার্যদের অফিস ছাড়া প্রশাসনিক ভবনের অন্য দপ্তরে নতুন কেউ প্রবেশ করলে বোঝার উপায় নেই যে এখানে প্রশাসক ও কর্মকর্তারা আছেন। অনেকটা বস্তির মতো গিঞ্জি করে অফিস করতে হয়। প্রশাসনিক ভবনে সেবাপ্রার্থীদের বসার জন্য চেয়ার রাখার মতো জায়গা পর্যন্ত নেই। প্রতি বছর নতুন নতুন ভবন হলেও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের কথা কেউ বলে না। প্রশাসনিক ভবনে প্রত্যেক কর্মকর্তার জন্য আলাদা ডেস্ক তৈরি করা দরকার।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার সমিতির সভাপতি রশীদুল হায়দার জাবেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে কলা ভবন, বিবিএ ভবন হলেও কোনো অদৃশ্য কারণে স্বতন্ত্র রেজিস্ট্রার ভবন এখনো নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা অতিদ্রুত নতুন প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে আবার দাবি জানাব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাছান মিয়া বলেন, ‘স্বতন্ত্র রেজিস্ট্রার ভবন না থাকায় আমাদের কিছু দপ্তরকে পুরোনো কলা ও মানববিদ্যা অনুষদে স্থানান্তর করা হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এ অসুবিধার মধ্যে দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কিছুদিন পর আমাদের টিএসসি ও সিনেট ভবনের কাজ শুরু হবে। তখন রেজিস্ট্রার ভবনের কয়েকটি দপ্তর সেখানে চলে যাবে। নতুন করে রেজিস্ট্রার ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা আমাদের নেই।’
এ বিষয়ে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, ‘নতুন করে স্বতন্ত্র রেজিস্ট্রার ভবন না করে এই ভবনকেই আরও বাড়ানো যায় কীভাবে, সেই প্রচেষ্টা করছি। উপাচার্য দপ্তর ও অন্যান্য দপ্তরের কাজের মধ্যে আরও কীভাবে গতিশীলতা আনা যায়, সেটা অটোমেশনের মাধ্যমে সম্পন্ন করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘৬০ বছরে আমাদের কোনো টিএসসি নেই, উপাচার্য ভবন নেই। তবে এসব নিয়ে আমরা ডিপিপি পাস করানোর জন্য কাজ করছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর ফজল বলেন, ‘রেজিস্ট্রার ভবনের কাজ আমাদের মাস্টার প্ল্যানে আছে। ১৯৬৬ সালে এই মাস্টার প্ল্যান করা হয়। ২০২০ সালে এগুলোকে আমরা পুনরায় পরিকল্পনা করে গুরুত্ব ও আর্থিক দিক বিবেচনা করে কাজ করছি।’








আপনার মতামত লিখুন