ব্রিটিশদের তৈরী ১২৭ বছরের পুরোনো ফৌজদারি কার্যবিধিতে বড় পরিবর্তন
১২৭ বছরের পুরোনো ফৌজদারি কার্যবিধিতে বড় পরিবর্তন এনেছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। যাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে তিনি পুলিশের পরিচয় পত্র দেখতে পারবেন। থানায় নেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব গ্রেফতারকৃতের পরিবার, বন্ধু বা আইনজীবির সঙ্গে যোগা-যোগ করে জানাতে হবে গ্রেফতারের কারন। কোন অবস্থাতে নেওয়া যাবেনা ১২ ঘন্টার বেশি সময়।
বিনা পরোয়ানায় কাউকে গ্রেফতার বা রিমান্ড নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও এতদিন বৃদ্ধা আঙ্গুলী দেখাতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
যে কাউকে উপরের মহলে গ্রেফতার করা ছিলো অলিখিত নিয়ম। তবে ১২৭ বছরের পুরোনো সেই ফৌজদারি কার্যবিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে অন্তবর্তীকালীন সরকার।
সংশোধীত বিধান গুলোতে গ্রেফতার, তদন্ত, জামিন, বিচারসহ পুরো প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। ফৌদজারি কার্যবিধি-১৮৯৮ সালের ৫৪ ধারা মতে গ্রেফতার করতে হলে কারন উল্লেখ করতে হবে, বাসা ছাড়া অন্য কোথাও কাউকে গ্রেফতার করা হলে ১২ ঘন্টার মধ্যে জানাতে হবে নিকট আত্নীয় কে এ সময়ের মধ্যে তার পচন্দের আইনজীবির সঙ্গে কথা বলার সুযোগও দিতে হবে।
পরিবর্তন এসেছে ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা, পুলিশের রিমান্ডে নেওয়া, অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো, মামলার হাজিরা ও স্বাক্ষীর নিরাপত্তার ব্যবস্থাতে। এছাড়া যে কোন স্থানে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনার বিধানও রাখা হয়েছে।
এখন ধরেই কাউকে আটক আদেশ দেওয়া যাবেনা, যে পুলিশ অফিসার আসামি গ্রেফতার করতে যাবেন দেখাতে হবে তার পরিচয় পত্র আসামিকে। গ্রেফতারের পর অসুস্থ্য হয়ে গেলে তাকে সরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল অফিসারের সামনে নিতে হবে।
তবে এসব নতুন নিয়ম পালন করতে, রাজনীতিক সরকারের আমলে পুলিশের আচরনই বলে দিবে তারা কি করবে।
মূলত ফৌদজারি কার্যবিধি ১৮৯৮ সালের ৫নং আইন, এটির প্রকাশকাল ২২ মার্চ, কার্যকর ১ জুলাই ১৮৯৮ সাল। এই আইনের ৫৪ ধারার মতে ৯ ধরনের ব্যক্তিকে Arrest without Warrant অথাৎ পুলিশ যখন বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে।
এই ধরনের ব্যক্তিরা হলেন-
- . যিনি আমলযোগ্য অপরাধের সাথে জড়িত অথবা যিনি আমলযোগ্য অপরাধ করেছেন মর্মে সন্দেহ রেয়েছে।
- . যার নিকট ঘর ভাঙ্গার সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
- . সরকারের আদেশ দ্বারা যাকে অপরাধী ঘোষণা করা হয়েছে।
- . যার নিকট চোরাই মাল পাওয়া গেছে।
- . যিনি পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছে বা পুলিশের নিকট হতে পলায়ন করেছে।
- . যিনি বাংলাদেশের কোন সশস্ত্র বাহিনী হতে পলায়ন করেছে।
- . যিনি বাংলাদেশের বাহিরে এমন কোন কাজের সাথে জড়িত যা বাংলাদেশের আইনে অপরাধ বলে গণ্য।
- . ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬৫(৩) ধারার বিধান লংঘন করেছে।
- . যাকে গ্রেফতারের জন্য অন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তা কাছ থেকে অনুরোধপত্র পাওয়া গেছে।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে ১২৭ বছর আগের এই আইনের মৌলিক পরিবর্তনে আইন অঙ্গন নতুন ভাবে সাজবে এবং সুরক্ষিত হবে মানবাধিকার এমন আশা করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই।







আপনার মতামত লিখুন