গাজাগামী নৌবহর নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কলম্বিয়ার হুঁশিয়ারি
গাজার উদ্দেশে যাত্রারত মানবিক সহায়তাবাহী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা ঠেকাতে হুমকি ও পদক্ষেপ নিচ্ছে ইসরায়েল। তবে এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কলম্বিয়া। দেশটি বলেছে, ফ্লোটিলায় হামলা হলে তা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হবে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ঘোষণা দিয়েছেন, ফ্লোটিলাকে গাজার উপকূলে পৌঁছাতে দেওয়া হবে না। তিনি অংশগ্রহণকারীদের সম্ভাব্য “সন্ত্রাসী” আখ্যা দিয়ে জাহাজ জব্দ এবং কর্মীদের কারাগারে পাঠানোর আহ্বান জানান।
ফ্লোটিলা নেতারা এ অভিযোগকে “ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা” হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, ইসরায়েল কেবল আগ্রাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ইতালি ঘোষণা করে, ফ্লোটিলা গাজার ১৫০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে ঢুকলে তারা নৌ-সঙ্গরক্ষা প্রত্যাহার করবে, যাতে কোনো কূটনৈতিক সংকট না হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গুইডো ক্রোসেট্টো ফ্লোটিলাকে সাইপ্রাসে ত্রাণ খালাস করার আহ্বান জানান। তবে আয়োজকরা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি আসলে মিশনের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাত।
এর আগে স্পেনও সামরিক সঙ্গরক্ষা দিয়েছিল, তবে বর্তমানে ফ্লোটিলা কোনো রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাই পাচ্ছে না। ফলে সংঘর্ষের আশঙ্কা বেড়েছে।
এই উদ্যোগে রয়েছেন— সুইডিশ পরিবেশ কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদ রিমা হাসান, নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি জ্ওয়েলিভেলি ম্যান্ডেলা, ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার শিল্পী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা, ফ্লোটিলা ইতালি, স্পেন, গ্রিস, তিউনিসিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে যাত্রা শুরু করেছে। কেবল ইতালি থেকেই এসেছে ৪৫ টনের বেশি ত্রাণসামগ্রী। মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশ থেকেও সাহায্য পাঠানো হয়েছে।
ফ্লোটিলার আয়োজকেরা বলছেন, তারা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। ২০১০ সালের কুখ্যাত “মাভি মারমারা” হামলায় ইসরায়েলি কমান্ডোরা ১০ জন কর্মীকে হত্যা করেছিল, যা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তোলে।
ইতালির ৭০টিরও বেশি শহরে বিক্ষোভ, তিউনিসে অবস্থান ধর্মঘট, সাধারণ ধর্মঘটের ডাক, সব মিলিয়ে, ফ্লোটিলা গাজায় পৌঁছতে পারলে নতুন এক মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আয়োজকেরা।
সূত্র: মেহের নিউজ








আপনার মতামত লিখুন