সিরামিক এক্সপো শুরু ২৭ নভেম্বর: একই ছাদের নিচে ২৫ দেশ, ১৩৫ প্রতিষ্ঠান
রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরা (আইসিসিবি) প্রাঙ্গণে আগামী ২৭ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে ‘সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশ ২০২৫’। বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ) আয়োজিত এ চারদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সিরামিক মেলা একই ছাদের নিচে বিশ্বের ২৫ দেশের ১৩৫ প্রতিষ্ঠান এবং ৩০০টিরও বেশি ব্র্যান্ডকে একত্র করছে।
আজ শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বিসিএমইএ’র প্রেসিডেন্ট মইনুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারি ও ফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান ইরফান উদ্দীন, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মামুনুর রশীদ এফসিএমএ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল হাকিম সুমন, ভাইস প্রেসিডেন্ট রাশীদ মাইমুনুল ইসলাম এবং পরিচালক মো. জিয়াউল হক জিকু।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়—মেলায় অংশ নেবে ৫০০ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও বায়ার। থাকবে তিনটি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিটুবি ও বিটুসি মিটিং, রাফেল ড্র, আকর্ষণীয় উপহার, লাইভ ডেমোনস্ট্রেশন, স্পট অর্ডার সুবিধা এবং নতুন পণ্যের মোড়ক উন্মোচন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা বিনামূল্যে মেলা পরিদর্শন করতে পারবেন।
উদ্বোধনী দিন ২৭ নভেম্বর আইসিসিবি-তে এক্সপোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। আর ২৯ নভেম্বর একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন।
বক্তব্যে বিসিএমইএ’র প্রেসিডেন্ট মইনুল ইসলাম বলেন, দেশের সিরামিক শিল্প দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। বর্তমানে টেবিলওয়্যার, টাইলস এবং স্যানিটারিওয়্যারসহ ৭০টির বেশি শিল্প-কারখানা চালু রয়েছে। স্থানীয় বাজারে বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়। গত এক দশকে এ খাতে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ১৫০ শতাংশ। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে সিরামিক পণ্য রপ্তানি করে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আয় হচ্ছে। তিনি জানান, এ শিল্পে ইতোমধ্যেই প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে এবং প্রত্যক্ষ–পরোক্ষভাবে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
ফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান ইরফান উদ্দীন বলেন, উন্নত মান ও নান্দনিক ডিজাইনের কারণে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। নতুন বাজারও তৈরি হচ্ছে। সিরামিক এক্সপোকে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ প্রদর্শনী দাবি করে তিনি বলেন, এতে দেশি-বিদেশি উৎপাদক ও রফতানিকারকরা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, নতুন পণ্য এবং দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশীয় পণ্যের বাজার বিস্তারের পাশাপাশি ব্যবহারের সচেতনতা বাড়ানোও এই আয়োজনের একটি লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, অটোমেশন, উন্নত ডিজিটাল প্রিন্টিং, রোবোটিক হ্যান্ডলিংসহ নবীন প্রযুক্তির ব্যবহার সিরামিক শিল্পকে বদলে দেবে। স্মার্ট টাইলস ও সেন্সরযুক্ত পণ্যের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা বাংলাদেশের বাজারেও প্রভাব ফেলবে—এমন প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মেলায় প্রিন্সিপাল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে শেলটেক সিরামিকস। প্লাটিনাম স্পন্সরস—ডিবিএল সিরামিকস, আকিজ সিরামিকস ও মেঘনা সিরামিক। গোল্ড স্পন্সরস হিসেবে থাকছে মীর সিরামিক, আবুল খায়ের সিরামিক, এইচএলটি ডিএলটি এবং সাকমি।
চারদিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীরা সিরামিক শিল্পের সর্বশেষ প্রবণতা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা পাবেন—এমনটাই আশা করছে বিসিএমইএ।







আপনার মতামত লিখুন